বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের দিয়ে চলে যে ক্যাফে

পোল্যান্ডে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের (প্রতিবন্ধী) চাকরির সুযোগ সীমিত। সে কারণে তাদের জন্য স্বাবলম্বী হওয়া কঠিন। তবে বছরখানেক আগে ক্রাকাউ শহরে ‘স্পোয়েচনা ক্যাফে’ বা ‘সোশ্যাল ক্যাফে’ নামের একটি ক্যাফে চালু হয়েছে। যেখানে কাজ করেন ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। সেখানে তারা সব ধরনের কাজ করেন। কেক বানান, কফি তৈরি করেন, ক্রেতাদের সার্ভ করেন। এখানে কাজ করে কর্মীরা বড় স্বপ্নও দেখছেন।

স্পোয়েচনা ক্যাফেতে যারা কাজ করেন তাদের একজন শিমন জেখ। তিনি বলেন, কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ১০টায় খোলার পর ক্যাফেতে মানুষ আসতে দেখে মনে আনন্দ হয়।

বছরখানেক আগে ক্যাফে চালু হওয়ার সময় থেকেই শিমন সেখানে কাজ করছেন। করোনার আগে একটি হোটেলে কাজ করতেন। টিভি শোতেও অংশ নিয়েছেন। এখন এই ক্যাফেই তার পৃথিবী। শিমনের মা বেয়াটা বলেন, ‘আগে মনে করতাম ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তরা মা-বাবা ছাড়া চলতেই পারবে না। কিন্তু আমার ছেলে স্বাধীন। সে একাই পুরো শহরে ঘুরে বেড়ায়। অন্য শহরেও যায়। ট্রেনে করে পুরো পোল্যান্ড ঘুরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে। তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বোধ অনেক বেশি।’ তিনি জানান, তার ছেলে এখন স্বপ্ন দেখে আমেরিকায় গিয়ে গিটার বাদক হবে।

সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ‘স্পোয়েচনা ২১’ এই ক্যাফে চালু করেছে। গরমের সময় তারা ফুড ট্রাকে করে বেলজিয়ান ফ্রাইসও বিক্রি করে। তাদের সব কাজই প্রতিবন্ধীদের সহায়তা করে। স্পোয়েচনা ক্যাফের ম্যানেজার গ্রায়না বানাচ-কোচোলেক বলেন, আমরা দেখানোর চেষ্টা করছি যে, আমাদের সন্তানরা, কর্মীরা চাকরিতে থাকার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে পারে। অনেক অভিভাবক মনে করেন না যে, তাদের সন্তানরা এসব করতে পারে, এমন কাজ করতে পারে। তিনি জানান, ক্যাফের পুরো আয় কর্মীদের সামাজিক পুনর্বাসনে ব্যয় করা হয়।

বর্তমানে এই ক্যাফে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ইতিমধ্যে পোল্যান্ডে ছোট্ট সেনসেশন হয়ে উঠেছে এটি। সামাজিক মাধ্যমে এই ক্যাফের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।