ভারতের লোকসভার নির্বাচনের প্রথম দুই পর্বের ভোট গ্রহণ ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রত্যাশা মতো হয়নি। তাদের পরিকল্পিত ও কাক্সিক্ষত ভোটার আসেনি ভোট কেন্দ্রে। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার হতে যাচ্ছে তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণ। অথচ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের এলাকা বাদ দিয়ে গিয়েছে অযোধ্যায়; যেখানে ভোটের আরও দুই সপ্তাহ বাকি। তাহলে এত আগে কেন সেখানে গেলেন মোদি?
বিরোধীরা বলছেন, বার্তা স্পষ্ট, প্রথম দুই দফায় প্রত্যাশার প্রতিফল না দেখেই তৃতীয় দফা ভোটের আগে রাম আবেগকে উস্কে দিতে তড়িঘড়ি অযোধ্যা ছুটে যেতে বাধ্য হয়েছে মোদি।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, রামমন্দিরে রামলালার মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠার পরে প্রথম বার অযোধ্যা সফরে আসা প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যই হলো তৃতীয় দফা নির্বাচনের আগে হিন্দু ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে অন্যত্র গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করা।
গোড়া থেকেই রামমন্দির নির্মাণ ও রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে হিন্দু ভাবাবেগের ঝড় তোলার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু জানুয়ারি মাসে মন্দির উদ্বোধনের সময় মন্দির ঘিরে যে আবেগ লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তা গত তিন-চার মাসে অনেকটাই অস্তমিত। কমে এসেছে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। ফলে বিজেপিও বুঝে গেছে, যে আবেগকে সঙ্গী করে হিন্দু মেরুকরণের লক্ষ্য তারা নিয়েছিল, তা প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছয়নি। পরোক্ষে যার প্রভাব পড়েছে প্রথম দুই পর্বের ভোটে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে প্রথম দুটি পর্বে যে ১৬ আসনে ভোট হয়েছে, তাতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি মোদির দল। এই আবহেই আজ উত্তরপ্রদেশের ১০টি আসনে নির্বাচন। মূলত পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় দুটি পর্বে ভোট শেষ হওয়ার পরে অবশেষে যোগীরাজ্যে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় ভোট শুরু হতে যাচ্ছে। এ যাত্রায় উত্তরপ্রদেশে দল যদি ভালো না করে, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে, তা বুঝতে পারছে বিজেপি। তাই আর দেরি না করে তৃতীয় দফার প্রচার শেষ হওয়ার সন্ধ্যায় অযোধ্যায় পৌঁছে যান মোদি। অযোধ্যায় নেমেই রামলালা দর্শন এবং রামলালার পুজা দেন তিনি। এরপর অযোধ্যার রাস্তায় প্রায় দুকিলোমিটার লম্বা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্লেষণ, প্রথম দুটি পর্বের ভোট থেকে স্পষ্ট, দলীয় কর্মীদের একাংশ কার্যত বসে গিয়েছেন। তাদের চাঙা করতে প্রথম দফা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব প্রচারে হিন্দু-মুসলমান বিভাজনের রাজনীতির উপরে জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও বিশেষ যে লাভ হয়েছে, তা মনে করছে না দল। সেই কারণে বিজেপির অন্যতম প্রচারের অস্ত্র রামেই ভরসা রাখার কৌশল নিয়েছেন মোদি।