টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই

স্বত্ব রক্ষায় ভারতে আইনজীবী ফার্ম নিয়োগ বাংলাদেশের

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বত্ব রক্ষায় ভারতে আইনি লড়াই করতে নয়াদিল্লির ‘ম্যাসন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ নামে একটি আইনি ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে এ বিষয়টি হলফনামা আকারে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধনযোগ্য (রেজিস্ট্রেশন) জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের তালিকা দাখিল করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এতে ৬৪ জেলার দেড়শো জিআই যোগ্য পণ্যের তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের শাড়িকে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাদের জিআই স্বত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। বাংলাদেশি পণ্যের জিআই স্বত্ব নিয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট নিবন্ধনযোগ্য জিআই পণ্যের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মন্ত্রণালয় এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরকে সমন্বয় করে এ তালিকা  দাখিল করতে বলা হয়। একই সঙ্গে রুলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধনযোগ্য প্রাকৃতিক, কৃষিজাত ও কারু জাতীয় জিআই পণ্যের তালিকা, সংরক্ষণ ও নিবন্ধনে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। জিআই পণ্যের সমন্বিত তালিকা তৈরি ও তা প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন।

আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৬৪ জেলার দেড়শোর বেশি জিআই যোগ্য পণ্যের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ির জিআই স্বত্ব নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছিল সে বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নয়াদিল্লিতে একটি ল ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি আমরা আজকে (গতকাল) হাইকোর্টকে অবহিত করেছি। আদালত দুই সপ্তাহ পর শুনানির জন্য ধার্য করেছে।’