সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে আরও আলাপ-আলোচনা করতে হবে। তবে আপাতত বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, গত ১৫ বছরে সরকার অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চাকরির বয়স ছিল ২৭ বছর। সেখান থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ বছরে উন্নীত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সেটা ৩২ বছর করা হয়েছে। চাকরি থেকে অবসরের বয়স ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। আমরা সবসময় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনবল কাঠামো ও নিয়োগ প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করে থাকি।
যুগের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমরা পরিবর্তনও করে থাকি।
বয়স বাড়ানো প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা সবসময় বলে আসছি, ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট যারা তাদের রিক্রুট করতে চাই। এটা সরকারের একটা পলিসি। আমরা বিসিএসের মাধ্যমে দেখে থাকি, ২২-২৩ বয়স থেকেই তারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকেন। তারা ৬-৭ বছর সময় পেয়ে থাকেন। এজন্য তারা যোগদানের যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি সংসদে জানিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাকরির বয়স আগামীতে বাড়াব কি বাড়াব না, বাড়ালে ভালো হবে কি না এটা আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
চাকরির বয়স ৩৫ বছর করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী একটি আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন। সরকারের এটা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এ প্রশ্নে ফরহাদ হোসেন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর থেকে এ ধরনের একটি পত্র আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি।
দেশে বিচারাধীন মামলা ৩৭ লাখ ২৯ হাজার : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দেশের ৬৪ জেলায় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫টি। এসব মামলার মধ্যে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪টি দেওয়ানি এবং ২১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৪টি ফৌজদারি মামলা। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে আবদুল মোমেনের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২১ সালের ১০ জুন থেকে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৮টি দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে।
ইলিশের উৎপাদন বেড়ে ৫.৭১ লাখ টন : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রহমান সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময় ইলিশের উৎপাদন বেড়ে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। গতকাল সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সদস্য পংকজ নাথের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৯৯ লাখ টন। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলেদের ভিজিএফের পরিমাণ মাসিক ১০ কেজি থেকে ৪০ কেজিতে উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেন।