উধাও মাওয়া আবহাওয়া অফিস!

মুন্সীগঞ্জের একমাত্র আবহাওয়া অফিসটি গুটিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক দশক এ জেলার জলবায়ু, ঝড়সহ তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বার্তা দিয়ে আসছিল এ অফিসটি। আজ মঙ্গলবার আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানতে অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে ফোন করলে তিনি জানান, গত ৩১ মার্চ মাওয়ার আবহাওয়ার অফিসটি বন্ধ করে দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তিনি এখন আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গা সংক্রান্ত জটিলতায় অফিস গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর মাওয়া টোলপ্লাজার কাছে স্থাপিত আবহাওয়া অফিসটির জায়গা পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের। জায়গার অভাবে অফিস গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সম্প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। জায়গা সংক্রান্ত জটিলতায় জেলার একমাত্র আবহাওয়া অফিসটি একেবারে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সংগঠক নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল।

তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের একমাত্র আবহাওয়া অফিসটি জায়গার অভাবে গুটিয়ে নেওয়া খুবই দুঃখজনক। মাওয়া ছাড়া লৌহজং উপজেলা কিংবা জেলার অন্য কোথাও আবহাওয়া অফিসের জন্য জমির অনুসন্ধান করা হয়েছে কিনা- বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য খামারিরা ফোন করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবরাখবর নিতেন। অফিস গুটিয়ে নেওয়ায় চলতি তীব্র দাবদাহ, ঝড় বৃষ্টির কোনো ধরনের বার্তা পাচ্ছেন না জেলাবাসী। সেই সঙ্গে পদ্মা সেতু ব্যবহারকারীরা স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গতকাল সোমবার হঠাৎ রাত ১০টা থেকে পদ্মা পাড়ে ঝড়, বৃষ্টি শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে তীব্র ঝাড় ও বৃষ্টি হয়। আজ মঙ্গলবার ভোরে পদ্মার জেলের আবহাওয়া তথ্য না জেনে মাছ ধরতে গেলে যেকোনো মুহূর্তে ঝড় চলে এলে তাদের নানান ধরনের সমস্যায় সম্মুখীন হতে হয়।

এ বিষয়ে পদ্মা নদীর জেলে অরুণ বর্মণ জানান, আমরা জেলে মানুষ। মাছ ধরতে গেলে পদ্মা অনেক ধরনের সমস্যায় পড়ি। হঠাৎ ঝড় বৃষ্টিতে পড়তে হয়। এ ঝড় বৃষ্টির খবর আমরা আগে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস থেকে পেতাম। সর্তক হয়ে নদীতে নামি। কিন্তু এখন তো আবহাওয়া অফিস নাই কোথা থেকে তথ্য নেব। আমরা জেলেদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবহাওয়া অফিসটির জন্য জায়গার সংস্থান করে পুন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের জমি প্রয়োজন হলে আমাদের নিকট আসুক। আমরা জমি ব্যবস্থা করে দেব। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আবহাওয়া অফিসের কেউ আমাদের নিকট আসেনি।