চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ হতে পারে ১৬ জুন। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে হজের প্রথম ফ্লাইট শুরু হবে। অথচ বেসরকারিভাবে বেশিরভাগ হজযাত্রীর এখনো ভিসা কার্যক্রম শেষ হয়নি। ফলে বিপাকে পড়েছেন অনেক হজ এজেন্সি ও হজযাত্রীরা।
একাধিক হজ এজেন্সির মালিকের দাবি, হজযাত্রীদের জন্য বাড়িভাড়া করার জন্য আমাদের প্রতিনিধিদের সৌদিতে যেতে হয়। এজন্য সৌদির মাল্টিপল ভিজিট ভিসা দেওয়া হয়। হজ অফিসের পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা (এজেন্সিগুলো) পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভিজিট ভিসার জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় এখনো সেটি দিতে পারেনি। প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে না গেলে বাড়িভাড়া সম্পন্ন হবে না। প্রতিনিধি ছাড়া বাড়িভাড়া করা যাবে না এবং বাড়িভাড়া করা না গেলে হজ ভিসা করা যাবে না। তাই আমরা বিপাকে পড়েছি।
এদিকে হজযাত্রীদের ভিসা কার্যক্রম শেষ করতে ভিসা আবেদনের সময় বাড়ানোর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় আগামী ১১ মে পর্যন্ত হজের ভিসা ইস্যুর সময় বাড়ানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম।
জানা গেছে, এবার সরকারি ও বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮৩ হাজার ১৮৪ জন হজযাত্রী। সরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ২৮৯ জন। আর বেসরকারিভাবে করেছেন ৭৮ হাজার ৮৯৫ জন। সরকারিভাবে নিবন্ধনকৃত হাজিদের ভিসা নিশ্চিত হলেও বেসরকারিভাবে নিবন্ধনকৃত ৩৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ আগামী ১১ মে পর্যন্ত হজ ভিসা ইস্যুর মেয়াদ বাড়িয়েছে।
এ মৌসুমের হজের নিবন্ধন শুরু হয় গত বছর ১৫ নভেম্বর এবং ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। হজে গমনেচ্ছুদের প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় সময় বাড়ানো হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাতেও কোটার অর্ধেকও পূরণ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রত্যাশিত কোটা পূরণ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ১ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।
এদিকে গত ৪ মে হজ এজেন্সিগুলোকে ভিসা আবেদনের তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে ২০৪টি এজেন্সি এখনো হজযাত্রীর জন্য ভিসা প্রসেস শুরুই করেনি, যা হজযাত্রীদের হজে গমনে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
ভিসা আবেদনে বিলম্ব সম্পর্কে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার বলেন, ‘এবার হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করেছে সৌদি আরব। তাই সবকিছু বুঝে কাজ করতে একটু সময় লাগছে। তিনি আরও বলেন, কাজ এখন দ্রুত হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভিসা হয়ে যাবে। আর সময় বাড়ানো হয়েছে। তাই আশা করি সমস্যা হবে না।’