চট্টগ্রামের গণপরিবহন সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৫৪ ভাগ মানুষ

চট্টগ্রাম মহানগরীর গণপরিবহন সেবা নিয়ে ৫৪ শতাংশ মানুষই অসন্তুষ্ট। তারা এই অসন্তুষ্টির কারনে হিসেবে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট, যানবাহনের স্বল্পতা, পরিষেবার অপর্যাপ্ত, যানবাহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য কোন সুবিধা না থাকা, নিরাপত্তার অভাব এবং উচ্চ ভাড়াকে দায়ী করেন।

সম্প্রতি ইয়ং পাওয়ার সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত এক গবেষণায় এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় “চট্টগ্রাম নগরীর গণপরিবহন ব্যবহারকারী যাত্রীদের অন্তভর্‚ক্তিমূলক সেবা নিরূপণ বিষয়ক গবেষণা” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, দিনের মোট তিন সময়ে গণপরিবহণে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এই সময় পরিবহণ চালকরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ ব্যক্তি, নারী, গর্ভবতী নারী বা শিশুদেরকে গাড়িতে উঠতে বা নিতে চান না। এছাড়াও, গণপরিবহন পরিষেবা গুলোতে প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত বসার জায়গা থাকার সত্ত্বেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এসব সংরক্ষিত জায়গা ঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়না।

৮০ শতাংশ যাত্রী মনে করেন যে, চট্টগ্রামে গণপরিবহন সেবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ যাত্রী এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। এ ছাড়া প্রায় ৬৬ শতাংশ নগরবাসী গণপরিবহনে ভ্রমণকালীন সময়ে অসুবিধা বোধ করেন এবং ৬৯ শতাংশ মনে করেন নগরীর গণপরিবহন সেবা তাদের জন্য অনিরাপদ। অত্যাধিক ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে যৌন হয়রানি, পকেটমার ও মোবাইল ছিনতাই ঘটনা চলন্ত বাস থেকে নামতে বাধ্য করা ইত্যাদি এই অনিরাপত্তার কারণ।

এমতাবস্থায়, পরিবহন শ্রমিকদের সক্ষমতা উন্নয়ন, সড়ক পরিবহন আইন পরিচিতি এবং অনুসরণ, আসন সংখ্যা অনুসারেই কেবল মাত্র যাত্রী তোলা; নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ বান্ধব পরিবহন সেবা, এবং বাস স্টপেজ এ ভালভাবে থামিয়ে যাত্রী তোলা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রাইভেট পরিবহন কোম্পানি গঠন, বাস ভাড়ায় ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবস্থা, যাত্রী ও পরিবেশ বান্ধব আদর্শ স্টপেজ নির্মাণ করারও সুপারিশ করা হয়। 

গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এর যুগ্মসচিব নাজনিন ওয়ারেস। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী। ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানুর পরিচালনায় কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক শাহজালাল মিশুক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (উত্তর) এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কীর্তিমান চাকমা, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, বিআরটিএ এর সহকারি পরিচালক (প্রকৌশল) আতিকুর রহমান, বিআরটিসি এর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. জুলফিকার আলী, চট্টগ্রাম নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) এর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (ভারপ্রাপ্ত) ও নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ আবু ঈসা আনছারী, ট্রান্সপোর্ট প্রফেশনাল এলায়েন্স এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল, নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল প্রমুখ।