জন্ম থেকে যারা অন্ধ তাদের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে গবেষকরা এক ধরনের টুল ব্যবহার করছেন। এর নাম সংক্ষেপে সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯। গবেষণাটি মূলত এই মানব জিন সংশোধনের টুলটিকে ঘিরে। এর মাধ্যমে বংশগত দৃষ্টিহীনতা বা জন্মান্ধতা সারানো যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা ইতিমধ্যে ১৪ জনের ওপর গবেষণা করে ১১ জনের ক্ষেত্রে ভালো ফল পেয়েছেন। সেই ১১ জন জন্মান্ধ ব্যক্তি এখন দেখতে পারছেন। তাদের কোনো জটিল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হয়নি। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, শিগগিরই এই প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল এই গবেষণা। সে সময় ১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক (১৭-৬৩ বছর) মানুষ ও ২ জন শিশুকে (৯-১৪ বছর) নিয়ে গবেষণাটি শুরু হয়েছিল। এখন তাদের মধ্যে ৩ জন ছাড়া বাকিরা প্রায় স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন। গবেষকরা বলছেন, শিশুদের অন্ধত্ব সারাতে জিন থেরাপির ব্যবহার এই প্রথম। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিজ্ঞানী এরিক পিয়ার্স এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভেতর খুব উত্তেজনা কাজ করছিল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই ব্যক্তিদের কেউই আই চার্টে কোনো লাইনই পড়তে পারতেন না, এদের চিকিৎসার কোনো সুযোগও ছিল না। যারা রেটিনায় সমস্যা নিয়ে জন্মান তাদের ক্ষেত্রে এটি দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা। কিন্তু তাদের থেকে যে ফলাফল পাওয়া গেছে সেটি খুবই আশার বিষয়। সিএনএন জানাচ্ছে, পরীক্ষাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্রিলিয়ান্স’। ওই পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা এক রকমের জন্মান্ধতায় ভুগছিলেন, যাকে ‘লেবার কনজেনিটাল আমাউরোসিস’ বা এলসিএ বলা হয়। বিশ্বের প্রতি ৪০ হাজার মানুষে একজন এলসিএ-তে ভোগেন এবং খুব অল্প বয়সে প্রায় অন্ধ হয়ে যান। এই অন্ধত্বের কারণ এক ধরনের জিনের মিউটেশন। এই মিউটেশন সিইপি২৯০ নামের বিশেষ প্রোটিনের কাজে বাধা দেয়। এই প্রোটিন দৃষ্টির জন্য খুবই দরকারি। এর থেকেই চোখের আলোক সংবেদী কোষ গঠিত হয়। জিন সংশোধনের মাধ্যমে মিউটেশন রোধ করেই অন্ধদের দেখার পথ করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এই চিকিৎসা পদ্ধতির এখনো অনুমোদন দেয়নি। তবে গবেষকরা আশা করছেন শিগগিরই এই বিষয়েও সবুজ সংকেত পাবেন তারা।