নিজেদের প্রার্থীকে সমর্থন না করায় প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মাণ করিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম দেওয়ান। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ হলদিয়া গ্রামের দেওয়ানকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে রাসেল হোসেন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমনকি একই বিষয়ে মারধরের অভিযোগে লৌহজং থানায়ও অভিযোগ করেন রাসেল হোসেন। পরে উপজেলা এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার ওপর নির্মিত ঘর ভেঙে দিয়েছেন।
জানা যায়, সেলিম দেওয়ান উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তিনি বসবাস করেন পাশের হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হলদিয়া গ্রামের দেওয়ানকান্দি এলাকায়। তিনি আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ শিকদারের সমর্থক। প্রতিবেশী রাসেল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএম শোয়েবের সমর্থক। সম্প্রতি রাসেলসহ প্রতিবেশী কয়েকজনকে আবদুর রশিদ শিকদারের পক্ষে কাজ করতে বলেন। এ প্রস্তাবে রাসেল ও অন্যরা রাজি না হলে বুধবার রাতে জিয়াউর রহমানকে দিয়ে তার জমি বরাবর রাস্তায় ঘর নির্মাণ করান সেলিম দেওয়ান। এতে স্থানীয় রাসেল বাধা দিলে তাকে কয়েকজন মিলে মারধর করেন।
রাসেলের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কায়েসুর রহমান রাস্তার ওপর নির্মিত ঘর ভেঙে দেন। ঘটনার সত্যতা শিকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ভিডিও ও ছবি যাচাই করতে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছি। তিনি সরেজমিনে যাচাইয়ে সত্যতা পান। যেহেতু এটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা, তাই রাস্তার বাধা অপসারণ করেছি৷
এসিল্যান্ড কায়েসুর রহমান বলেন, কেউ ইচ্ছে করলেই সরকারি রাস্তায় ঘর তুলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেন না। এটি চলাচলের রাস্তা বিধায় উন্মুক্ত। যারা ঘর নির্মাণ করেছেন তাদেরও দাবি রয়েছে। আমি তাদের কাগজপত্র ভূমি অফিসে নিয়ে আসতে বলেছি। যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল নিজ প্রার্থীর পক্ষে না থাকায় একই এলাকার অদূরে ইটের দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেন সেলিম দেওয়ান। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। তখন উপজেলা প্রশাসন সরকারি রাস্তায় অবৈধভাবে নির্মাণ করা দেয়াল ভেঙে দেয়। সেলিম দেওয়ানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।