দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে সরকার : ফখরুল

সরকার কোনো কিছুকেই আর পরোয়া করছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নানা দুর্নীতির সমালোচনা ও জবাবদিহি নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এমন দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা গোত্র তৈরি করা হচ্ছে। যাদের সব দুর্নীতি-অনিয়মের মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

সেটা দিয়ে তারা এই সরকারকে টিকিয়ে রাখছে। একজন ব্যক্তি এখন সিঙ্গাপুরে চার নম্বর বিনিয়োগকারী। কয়েকজন ব্যক্তি আছেন পানামা লিস্টে। দুর্নীতি-অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে এই রাষ্ট্রকে কী করে পরনির্ভরশীল করা যায়, বিশেষ এই গোত্রের সেটাই লক্ষ্য।’

কারও কোনো জবাবদিহি নেই এমন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর লন্ডন বাড়ি পাওয়া গেছে তিনশ-আড়াইশটার মতো। তারা ডোন্ট কেয়ার। এটাতেই প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের এই পরিণতি করেছে।’

এ সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা কথা বলতে চাই, ওনাদের (সরকার) একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে সংকট থেকে তারা ওপরে উঠে গেছেন। আমি বলব, বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের, সরকারের সংকট আরও গভীর হয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি সেটা উপলব্ধি না করে, সংকট নিরসনের চেষ্টা না করে, তাহলে ভবিষ্যৎ তাদের জন্য খুব ভালো না।’

দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত বুধবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয় বলে মির্জা ফখরুল জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেমন আছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব বলেন, ‘তিনি শুধু বিএনপির মা নন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মা। তিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্য তার, সঠিক মূল্যায়নটা এ দেশের অনেকে করতে পারছেন না। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায়ই তিনি হাসপাতালে যাচ্ছেন, চেকআপ করাচ্ছেন, আবার বাসায় ফিরছেন। ফিরে আসার পরেও কিন্তু তিনি ২৪ ঘণ্টাই বলা যায়, মেডিকেল কেয়ারে আছেন।’

সরকারি হাসপাতালের চারপাশে নতুন নতুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক গড়ে ওঠা, মেধাবীদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে হলেও বাজেটের ৪ দশমিক ২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা ইত্যাদি বিষয়ও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় আমদানি পণ্যের বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশ ও জোট, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ রাষ্ট্রসংঘ কী ধরনের ভূমিকা নিয়েছে তা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশেরও উচিত দেশে আমদানি করা প্রতিটি পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পণ্যের মান যাচাই করা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেওয়া হয় কোন কোন মামলায় বিনা শুনানিতে বিচার হবে। সরকারের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দিয়ে কারান্তরীণ করতে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে।’

বানোয়াট, মিথ্যা, গায়েবি মামলায় এ পর্যন্ত বিএনপির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতিকে নির্বাসনে দেওয়ার তাদের (সরকার) চেষ্টা প্রতিটি নির্বাচনে দেখতে পাচ্ছি। তারাই ডামি প্রার্থী ঠিক করছে। তথাকথিত বিরোধী দলের আসনও তারাই ঠিক করে দিচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সচিব ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এসব আমাদের জিজ্ঞাসা না করে ওনাদের (সরকার) জিজ্ঞাসা করুন। এসব নিয়ে আমরা ইন্টারেস্টেড (আগ্রহী) না।’