৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস কনস্টেবলের

এসএসসি পাস করতে শিক্ষার্থীদের বয়স যেখানে সাড়ে ১৪ থেকে ১৬ বা ১৭ বছর হয়ে থাকে, সেখানে ৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবদুস সামাদ। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ পেয়েছেন। নিজের দায়িত্ব পালন শেষে পড়াশোনা করে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি।

আবদুস সামাদ বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের সদস্য। ১৯৮৭ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। এরপর আর পড়াশোনা হয়নি। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে হোমিও চিকিৎসক হবেন, তাই আবারও পড়াশোনা, পুলিশ সুপারসহ সহকর্মীদের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি।

১৯৬৮ সালে জন্ম নেওয়া রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আবদুস সামাদ ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দেন। তারপর কাজ করেছেন বগুড়ার শেরপুর, সদর ও নন্দীগ্রাম ডিএসবি, সদর কোর্টে। সর্বশেষ বগুড়া ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত আছেন তিনি। চাকরির বয়স আছে ২ বছর ১০ মাস। চাকরিকালে ৩২ বছর ধরে হোমিও বই পড়েন তিনি, চাকরি থেকে অবসর নিয়ে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। আর হোমিওপ্যাথি কোর্সে ভর্তি হতে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। সেই স্বপ্ন থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ২০২২ সালে নাটোর মহরকয়া নতুনপাড়া কারিগরি ইনস্টিটিউটে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এমন সফলতায় গত রবিবার রাতে বগুড়া সদর ট্রাফিক ফাঁড়িতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফুলেল শুভেচ্ছাসহ মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে তাকে।

আবদুস সামাদ বলেন, ‘পারিবারিক অসচ্ছলতায় অষ্টম শ্রেণি পাস করেই পুলিশে যোগ দিয়েছিলাম। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ওপর ছোট থেকেই আগ্রহ ছিল। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করে সবার সেবা করতে চাই। আর হোমিওপ্যাথি কোর্সে ভর্তি হতে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট লাগে। আমার শতবর্ষী মা এসএসসি পাসের কথা শুনে অনেক খুশি হয়েছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করতে পেরেছি।’

তার এই সফলতায় জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘৫৭ বছর বয়সে এসএসসি বিজয়ী জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়াদের অনন্য অনুপ্রেরণা ট্রাফিক কনস্টেবল আবদুস সামাদকে আন্তরিক অভিনন্দন।’