প্রায় দুই মাস ধরে মৌলভীবাজারে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট চলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা। কেউ চিকিৎসার জন্য আবার কেউ বিয়ের জন্য টাকা তুলতে গিয়েও ফিরছেন হতাশ হয়ে। নগদ টাকা না থাকায় চাহিদানুযায়ী সেবা দিতে পারছেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যাপারে তারা অসহায়।
মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডে অবস্থিত আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে গিয়ে ও বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস ধরে আইসিবি ব্যাংকে নগদ টাকা উত্তোলনে সমস্যা হচ্ছে। সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করতে পারছেন না তারা। ফলে, যেসব গ্রাহক ব্যবসায়িক বা অন্যান্য কাজের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা তুলতে আসছেন তাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এ নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের বাগ্বিত-ার ঘটনাও ঘটছে। প্রতিদিন শতাধিক গ্রাহক ব্যাংকে টাকা তুলতে এসে ফিরে যান।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ব্যাংকে থাকা নিজের টাকা তুলতে যান মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহবুব। ৫৫ হাজার টাকা তুলতে গেলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে বলেন, এত টাকা নেই। কারণ জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে টাকা সংকট চলছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ দেওয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দেন কর্মকর্তারা।
এর কয়েকদিন আগে ছমির মিয়া তার চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে যান ব্যাংকে। কিন্তু ব্যাংক থেকে তাকে বলা হয় তিনি দশ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। বিষ্ণু দেব নামের একজন গ্রাহকও এ সমস্যার শিকার হয়েছেন। তিনি ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করতে এসেও তুলতে পারেননি। ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকেও সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা তোলার জন্য বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ জানান, তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের কেনাকাটার জন্য টাকা তুলতে ব্যাংকে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক থেকে বলছে দশ হাজারের বেশি টাকা তিনি তুলতে পারবেন না।
জমি বিক্রির প্রায় ৫৬ লাখ টাকা কয়েক মাস আগে ব্যাংকে জমা রাখেন এক বৃদ্ধ। গত কয়েকদিন আগে ওই বৃদ্ধের ছেলে ২ লাখ টাকার চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে কর্মকর্তারা তাকে টাকা দিতে পারেননি।
টাকা সংকট রয়েছে জানিয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সুমন আহমদ বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে আমাদের শাখায় ক্যাশ টাকার সংকট চলছে। এ কারণে চাহিদানুযায়ী গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছি না। হেড অফিস থেকে আমাদের শাখায় টাকা না পাঠানোয় এ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।