‘ইনডিয়া’র বড় বাজি কেজরিওয়াল

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ভারতের আম আদমি দলের নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। চলমান লোকসভা নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েই দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানায় দিনভর প্রচারণা চালাচ্ছেন কেজরিওয়াল। এক বছর আগেও যা অভাবনীয় ছিল, তাই করে দেখিয়েছেন কেজরিওয়াল। এক সময় একে অপরের শত্রু হিসেবে বিবেচিত হলেও কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে তিনি রোড শো করছেন। এক হাতে কংগ্রেস, অন্য হাতে আম আদমি পার্টির প্রতীক নিয়ে তিনি হরিয়ানায় রোড শো করেছেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেজরিওয়াল যখন কারাগারে ছিলেন, তখন কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইনডিয়া জোটের নেতারা দিল্লিতে বিশাল প্রতিবাদ সভা করেছেন। আর এখন কেজরিওয়াল কংগ্রেসের প্রার্থীদের জন্য প্রচার করছেন। শুধু তাই নয়, কেজরিওয়াল এখন শুধু দিল্লি বা হরিয়ানায় প্রচার করছেন না। ইতোমধ্যে তিনি উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবেও প্রচার করেছেন। আর সেই প্রচারে নেমে সরাসরি বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণ করছেন। তিনি সেসব এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। তাতে কী ভোটের মাঠের চিত্র বদলে যাবে? বিশ্লেষকরা বলছেন অনেকটাই প্রভাব পড়বে। কেজরিওয়াল তার প্রচারে যুক্তি আর আবেগকে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের বিষয়টি প্রভাবিতও করছে। 

জামিন পাওয়ার পর দিল্লিতে প্রথম রোড শো ও পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ৭৫ বছর বয়স হয়ে গেলে বিজেপি নেতাদের রাজনীতি থেকে অবসর নিতে হবে। আদভানি, জোশী, যশবন্ত সিনহারা সে মতো অবসর নিয়েছেন। আগামী বছর সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। তিনি যদি এখন আবার প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তো তখন তাকে অবসর নিতে হবে। নিজের তৈরি করা নিয়ম তো তিনি ভাঙতে পারেন না। তখন অমিত শাহ প্রধানমন্ত্রী হবেন।

উত্তর প্রদেশে গিয়েও তিনি একই কথা বলেন। সেই সঙ্গে বলেন, ক্ষমতায় এলে যোগীকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেবেন মোদি।

হরিয়ানায় নিজের কারাবরণ প্রসঙ্গে বলেন, হরিয়ানার ছেলে যাতে ভোটে প্রচার করতে না পারে, সেই চেষ্টা করেছিলেন মোদি। আমি আবারও কারাগারে যাব কিনা, তা এখন আপনাদের হাতে। আমায় যদি কারাগারে পাঠাতে চান, তাহলে বিজেপিকে ভোট দিন, না হলে আম আদমি পার্টি বা ইনডিয়া জোটের দলগুলোকে ভোট দিন।

প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, কেজরিওয়াল এমন সব প্রসঙ্গে তুলছেন, যা বিজেপি উপেক্ষা করতে পারছে না। তারা জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে। সেই সঙ্গে কেজরিওয়াল এমন বিষয় বেছে নিচ্ছেন, যা সরাসরি ভোটদাতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর তাতেই বাজিমাত না হলেও উড়ন্ত বিজেপিকে মাটিতে নামাতে পারে।