নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তিন দশকের মধ্যে মানুষের গড় আয়ু বাড়বে। সঙ্গে মোটা হওয়া, রক্তচাপের মতো রোগও বাড়বে। দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস, ইনজুরিস অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি ২০২১-শিরোনামের গবেষণাটি গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে।
বিবিসি বলছে, বিশ্বব্যাপী অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর প্রধান প্রধান কারণ চিহ্নিত করতে গবেষণাটিতে ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনধারার সঙ্গে ভবিষ্যতের জীবনযাপনের অনেকটাই পরিবর্তন হবে।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিকস অ্যান্ড অ্যাডিকশনের প্রধান গবেষক ও বৈজ্ঞানিক লিয়ানে ওং জানিয়েছেন, মানুষের মধ্যে আসক্তি ও মোটা হওয়ার প্রবণতা দুই-ই বাড়বে।
গবেষক দলের মতে, বিশ্ব জুড়েই মানুষের আয়ু বাড়বে। পুরুষদের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ১ থেকে ৭৬ দশমিক ২ হবে এবং মেয়েদের গড় আয়ু ৭৬ দশমিক ২ থেকে ৮০ দশমিক ৫ হবে।
এখন যেসব দেশে মানুষের গড় আয়ু কম, সেখানে আয়ু সবচেয়ে বেশি বাড়বে। গবেষক সংস্থার পরিচালক ক্রিস মারে জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি আয়ের দেশ ও কম আয়ের দেশের মধ্যে বৈষম্য থাকবে, তবে ব্যবধান কমবে। সাব সাহারান-আফ্রিকায় মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি বাড়বে।
গবেষকরা বলেছেন, মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার ফলাফল হিসেবে আয়ু বাড়বে। কভিড-১৯, সংক্রামক রোগ, মাতৃত্বকালীন রোগ, বাচ্চাদের রোগ, অপুষ্টিজনিত সমস্যা কাটানোর জন্য নেওয়া উদ্যোগের ফলে আগামী তিন দশকে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাবে বলে গবেষকরা মনে করছেন।
গবেষকরা এটাও দেখেছেন, ২০০০ সাল থেকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও মোটা হওয়ার প্রবণতা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতে মানুষের সুস্থ জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মায়ের অপুষ্টি ও শিশুর অপুষ্টির (খর্বকায়-কৃশকায়) সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো যুক্ত হলে আরও ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ সুস্থ জীবনের সময় হারিয়ে যায়। বায়ুদূষণ, ধূমপান, বাচ্চার ওজন কম হওয়ার মতো বিষয়গুলোর প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে।
অর্থাৎ আয়ুষ্কাল বাড়লে মানুষের রুগ্ণ স্বাস্থ্যের সময়কাল বাড়তে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।