দলীয় অন্তর্কোন্দলের কারণে ঝুলে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজনে নতুন রোডম্যাপ আসছে। আগামীকাল রবিবার নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা থেকে এই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র।
ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরে সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ঠিক রেখে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় অন্তত দেড় দশক আগে। এর মধ্যে কয়েক দফা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ নানা কোন্দলের কারণে প্রতিবারই তা স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে একধরনের অসন্তোষ। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে ঢাকায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের মহাসচিব ওবায়দুল কাদের। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলন আয়োজনে প্রয়োজনীয় রোডম্যাপ প্রস্তুত করার জন্য নগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ভিত্তিতে আগামী রবিবার সকাল ১০টায় নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। নগরীর কাজির দেউড়ির সেনাকল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে এ সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন।
চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর আগে নগর আওয়ামী লীগের ১৩২ ইউনিটের মধ্যে ১০৫টি ইউনিট, ৪৪ ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি এবং ১৫ থানার মধ্যে ১টি থানা কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন শেষ করে তারপর নগর সম্মেলন করার বিষয়ে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।’ তিনি জানান, কার্যনির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হবে। সেখান থেকেই অনিস্পন্ন কমিটির সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ধারায় বিভক্ত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে বর্তমানে দুটি মূল স্রোতে রয়েছে। এর মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে ঘিরে রয়েছে অপর ধারাটি। মূলত প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ রয়েছে এই ধারায়। এর আগে নগর সম্মেলন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে একাধিক অভিযোগও জমা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের নির্দেশনায় সম্মেলন স্থগিত রাখা হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় ১৮ বছর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর পর নতুন কমিটি এলেও আর কোনো সম্মেলন হয়নি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান সম্মেলনের মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব আসুক। কেন্দ্রও তা-ই চায়। তাই কেন্দ্র থেকে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সম্মেলন আয়োজনের। সে লক্ষ্যে ওয়ার্কিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতারাও সেখানে থাকবেন। সভা থেকে সম্মেলনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
২০০৬ সালের ২৭ জুন নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও এনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলেও কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০১৭ সালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা গেলে সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট তাকে সভাপতির পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।