পশ্চিমের শর্তে কিয়েভের হতাশা 

উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে দেশটির সেনাদের বিরুদ্ধে বড় অগ্রগতি পেয়েছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধের সম্মুখসারি থেকে এ অঞ্চলের অন্তত ১০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে তারা। এক সপ্তাহের মধ্যে দখলে নিয়েছে ইউক্রেনের ২৭৮ বর্গকিলোমিটার ভূমি। ওই এলাকায় এখনো তীব্র লড়াই চলছে। তবে রাশিয়ার মুহুর্মুহু আক্রমণে কোণঠাসা ও দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ইউক্রেনের সেনারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আশঙ্কা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রুশ বাহিনী আরও জোরালো হামলা চালাতে পারে। এ অবস্থায় অস্ত্র-গোলাবারুদের অভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে তার পশ্চিমা মিত্ররা অস্ত্র দিলেও সেটির সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

গত শুক্রবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত সমাধানে আসার জন্য পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। তবে নিজেদের জন্য যেটা ন্যায্য সমাধান সেটাই করবে কিয়েভ।

অবশ্য পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, পশ্চিমা মিত্ররা অস্ত্র দিচ্ছে ঠিকই, তবে শর্ত জুড়ে দিচ্ছে, এসব অস্ত্র রাশিয়ার ভূখণ্ডে ব্যবহার করা যাবে না। আর এই শর্ত যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে বড় সুবিধা এনে দিচ্ছে।

কয়েক মাস ধরে হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী। বিশেষ করে ১০ মে থেকে খারকিভসহ ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় জোরালো হামলা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলেনস্কির আশা, প্রতিরক্ষাব্যূহ অটুট রাখবে ইউক্রেন। সেই সঙ্গে রুশ বাহিনীর যেকোনো অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া হবে। কেউ হাল ছাড়বে না।

প্যারিসে অলিম্পিক গেমস চলার সময় ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই আহ্বান খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি সেনা ও গোলাবারুদ আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দিতে রাশিয়াকে সময় ও সুযোগ করে দেবে।

পশ্চিমা মিত্রদের প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের মূল্যবোধ একই; তবে দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। যুদ্ধের রাশ টানার ব্যাপারে আমরা ভিন্নভাবে চিন্তা করি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, সবাই দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিছু মডেল খুঁজে পেতে চায়।

জেলেনস্কি বলেন, আমরাও চাই, যুদ্ধ থামুক। ইউক্রেনের জন্য ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই যুদ্ধ শেষ হোক। পশ্চিমারা দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চায়। সেটা তাদের জন্য ন্যায্য সমাধান।

এদিকে চীন সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেন, খারকিভ শহর দখল করাটা মস্কোর বর্তমান পরিকল্পনায় নেই। এই অঞ্চলে রুশ সেনারা অভিযান চালিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটি বেসামরিক এলাকা তৈরি করতে চাচ্ছে। আর তা পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে।