ভালো ফল করেও ভর্তি নিয়ে শঙ্কায় বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও চট্টগ্রামের বিজ্ঞানের ছয় হাজার শিক্ষার্থী এবার সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। আসন সংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত জিপিএ-৫ পাওয়া এসব শিক্ষার্থী শুধু সরকারি কলেজে নয় কাঙ্খিত বেসরকারি কলেজেও ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাত সরকারি কলেজে সিট রয়েছে ৩ হাজার ৫৯০ জনের। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না ৫ হাজার ৯৯৯ জন। এছাড়া অন্যান্য বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে প্রবেশ করলে এই সংখ্যা আরো বাড়বে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দ থাকে নগরীর শীর্ষ পাঁচ সরকারি ( চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, সিটি কলেজ, মহিলা কলেজ, বাকলিয়া কলেজ) কলেজ। কিন্তু এসব কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েও বিশেষ করে বিজ্ঞানের অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না। তাহলে তাদের জায়গা কোথায় হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মুজিবুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে চাহিদা অনুযায়ী সরকারি কলেজের সঙ্কট রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সঙ্কটের মুখে পড়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য পর্যাপ্ত আসনও নেই। আর তাই জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না।’

চট্টগ্রামের ৮ সরকারি কলেজে বিভাগওয়ারী আসন সংখ্যা।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৮২৩ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞানের ৯ হাজার ৫৮৯ জন, মানবিকের ১৩৭ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১ হাজার ৯৭ জন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে চট্টগ্রামের আট সরকারি কলেজে যথাক্রমে ২ হাজার ৭৪০ ও ৩ হাজার ৭৭০টি আসন রয়েছে। তাই এসব বিভাগে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগে সরকারি কমার্স কলেজ ছাড়া বাকি সাত কলেজে (চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, সিটি কলেজ, মহিলা কলেজ, বাকলিয়া কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল ও মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ৩ হাজার ৫৯০ জনের আসন রয়েছে। তাহলে জিপিএ—৫ পেয়েও এসব কলেজে ভর্তির বাইরে থাকবে ৫ হাজার ৯৯৯ জন।

এসব শিক্ষার্থী কোথায় ভর্তি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুল হক বলেন, ‘ সরকারি কলেজগুলোর পাশাপাশি ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ মিডিয়াম কলেজ, নৌ বাহিনী কলেজসহ চট্টগ্রামে কিছু ভালো মানের প্রাইভেট কলেজ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কলেজগুলোও ভালো করছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দক্রমে সেসব কলেজকে রাখতে পারে।’

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ অবশ্যই বাসা থেকে দূরত্ব, কলেজের টিউশন ফি ও শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনা করে পছন্দের ১০টি কলেজকে নির্বাচন করতে হবে। কম কলেজ নির্বাচন না করাই শ্রেয় হবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৬ মে থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারো শতভাগ অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষার্থীরা এই ওয়েবসাইটে www.xiclassadmission.gov.bd গিয়ে অনলাইনে আবেদন করবে। ২৬ মে থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই বাছাই করে প্রথম পর্যায়ের নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৩ জুন। প্রথম পর্যায়ের আবেদনে যারা কলেজ পাবে না তারা দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। তাদের ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ জুলাই। তারপরও যদি কেউ আবেদনের বাইরে থাকে এবং পছন্দের কলেজ না পেয়ে থাকে তাদের জন্য তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ৯ ও ১০ জুলাই তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনকৃতদের ফলাফল প্রকাশিত হবে ১২ জুলাই। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৫ জুলাই থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে কলেজে গিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং ৩০ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে।