গত সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরেই কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শৈশব থেকে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যার গুরুত্ব নিয়ে লিখেছেন মোসা. আঞ্জুয়ারা
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমরা শিক্ষকরা সার্বক্ষণিক কাজ করি। এ কাজ করতে গিয়ে বেশির ভাগ শিক্ষকই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এই সময়ের শিশুরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। তারা তুলনা করা, কঠিন করে কথা বলা, শাসন করা এগুলো কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না। সামান্য কথায় আত্মহননের মতো হঠকারী পথ বেছে নিচ্ছে। বাস্তবতাকে তারা মোটেই প্রাধান্য দিচ্ছে না । তাহলে আমরা ভবিষ্যৎকে কীভাবে সুন্দর করব?
এখন সময় এসেছে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া। আমরা বাবা মা হিসেবে কোনো সন্তানকে হারাতে চাই না। তাই আমাদের শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন নিতে হবে। এ জন্য মায়ের বা পরিবারের ভূমিকাই বেশি। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।
শিশুরা সাধারণত শাসন-বারণ পছন্দ করে না। নিয়মে আবদ্ধ থাকতে চায় না। এটা যেমন ঠিক তেমনি ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ এটা শেখাও জরুরি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন কারিকুলামে শিল্প ও সংস্কৃতি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত যে বিষয় রয়েছে তা মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বেশ সহায়ক। সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য বিষয়গুলোর পাঠও আনন্দ সহকারে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা তেমনি তাদের মানসিকতাও আলাদা। প্রতিটি শিশুর মানসিকতাও আলাদা। প্রত্যেকের প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের স্বল্প পরিসরে ও সীমিত সময়ে তা সম্ভব নয়। শ্রেণিকক্ষে তাই প্রতিটি শিশুরই মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়। একই শ্রেণির এতগুলো শিক্ষার্থীর মানসিকতা বোঝার উপায়ও নেই তাই শিক্ষকদের।
আমরা শরীর খারাপ হলে ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্তু মন খারাপ হলে তার কোনো পাত্তাই দেই না। অথচ এই মনের অবস্থা প্রকাশ পায় কাজ, কর্মে ও কথায়। যার প্রভাব কখনই ভালো হয় না। একইভাবে, শিশুদেরও মন খারাপ হলে তাদের লেখাপড়াসহ অন্যান্য বিষয়ও ভালোভাবে হয় না।
এ সমস্যা সমাধানে অভিভাবক, শিক্ষক আমাদের সবার উচিত শিশুর মানসিক বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা আর একটি শিশুও হারাতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আবেগিক সুস্বাস্থ্য।
লেখক : সহকারী প্রধান শিক্ষক
ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়
মিরপুর-২, ঢাকা ১২১৬