মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় এক গ্রামেই পৃথক তিনটি রাস্তা দখল করে নির্বাচনের প্রচারের ক্যাম্প করেছেন উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান প্রার্থী আওলাদ হোসেন মৃধার সমর্থকরা। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ২৯ মে জেলার সিরাজদীখান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাচনের আচরণবিধির ১২ এর (৩) ধারায় অনুযায়ী, জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের সড়কে কিংবা চলাচলে বিঘœ ঘটে এমন কোনো স্থানে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প করা যাবে না বলা আছে। একই সঙ্গে আচরণবিধির ১২ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে, একটি ইউনিয়নে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একটি ক্যাম্প করতে পারবেন। অথচ চেয়ারম্যান প্রার্থী আওলাদ হোসেন মৃধার ওই উপজেলার একই ইউনিয়নের এক গ্রামের তিনটি রাস্তা দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানিয়েছেন, জৈনসার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবু সাঈদ মাদবর, মিজান মোল্লা ও নুর হোসেন মোল্লা চেয়ারম্যান প্রার্থী আওলাদ হোসেন মৃধার সমর্থক। তারা কয়েক দিন আগে চাইনপাড়া গ্রামের আবদুল শেখের বাড়ির পাশের রাস্তা, করইতলা রাস্তা ও আবু সাঈদ মাদবরের বাড়ির দক্ষিণ পাশের চলাচলের রাস্তা দখল করে বাঁশ ও শামিয়ানা টানিয়ে তাদের পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প করেছেন। পৃথক ওই তিনটি রাস্তায় ক্যাম্প করায় জনসাধারণের চলাচলের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওই সমর্থকরা প্রভাবশালী হওয়ায় ক্যাম্প করতে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি। এমনকি রাস্তা দখলের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে সাংবাদিকদের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনী ওই ক্যাম্পগুলো সরিয়ে নিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ারম্যান প্রার্থী আওলাদ হোসেন মৃধার মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা কল করলে তিনি প্রথম রিসিভ করেন। ক্যাম্প করার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন।
জৈনসার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবু সাঈদ মাদবর বলেন, ‘রাস্তার ওপর নির্বাচনী ক্যাম্প করা যায় না এমনটা আমি জানতাম না। জানলে ক্যাম্প করতাম না।’ অন্য সমর্থক মিজান মোল্লা বলেন, ‘ক্যাম্প করা হলেও রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছে। তবে এটা যে আচরণবিধি লঙ্ঘন তা জানা ছিল না।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, ‘আমি এখনই খোঁজখবর নিচ্ছি। দ্রুত রাস্তা থেকে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’