দেশের গ্রামাঞ্চলের ৪৬ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা খরচ মেটাতে কোনো না কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া ৭৯ শতাংশ মানুষ কমপক্ষে করোনার টিকার একটি ডোজ নিয়েছে ও ২১ শতাংশ মানুষ কোনো টিকা নেয়নি।
এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি, করোনার টিকা গ্রহণের হার ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে নোয়াখালী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল জেলার ৬শ মানুষের ওপর এই জরিপ করা হয়।
জরিপে বলা হয়, গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে যায়। কিন্তু অনেক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি, চিকিৎসকের অনিয়মিত উপস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের দূরত্ব ও দুর্গম এলাকা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক অসামর্থ্য।
জরিপে আরও বলা হয়, ৮৩ শতাংশ মানুষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কে জানলেও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নানা হয়রানির কারণে বিপদাপন্ন উপযুক্ত সব মানুষ তালিকায় নাম লেখাতে পারে না।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জরিপের তথ্য ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবস্থানপত্র প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বন্ধনের নির্বাহী পরিচালক আমিনুজ্জামান মিলন ও নারী নেত্রী মনোয়ারা মিনু।
অবস্থানপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারি সুবিধাও জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন করা হয়নি। দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবার সরকারি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার ২০ শতাংশও ভোগ করতে পারে না। দরিদ্র জনসংখ্যার চাহিদা পূরণের জন্য সরকারের সম্পদ বরাদ্দ অপর্যাপ্ত। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী যেখানে চিকিৎসা খাতে মাথাপিছু ৮৮ ডলার খরচ করার কথা, সেখানে বাংলাদেশে খরচ হয় ৫৮ ডলার। চিকিৎসা ব্যয়ের ৭০ শতাংশ যায় ব্যক্তির পকেট থেকে। এই ব্যয় সংকুলান করতে না পেরে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়।
অবস্থানপত্রে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। অথচ এই খাতে বৈশ্বিক গড় ব্যয় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে কর্মজোটের আহ্বায়ক ও এনআরডিএস নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্র মানুষের বৈষম্য, সরকারের ২০৩২ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের ঘোষণা পূরণের অঙ্গীকারকে দুর্বল করবে।