ফিলিস্তিনের নাকবা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনেককে। গত শনিবার নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন শহরে এ ঘটনা ঘটেছে।
ব্রুকলিন শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে বে রিজ এলাকায় শনিবার জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। ওই এলাকার বাসিন্দাদের বড় অংশই মুসলিম, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত।
কাতারভিত্তিক সংবাদ সম্প্রচার মাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বিক্ষোভকারীরা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের জাতিগত নিধনযজ্ঞের ঘটনার স্মরণে (নাকবা বা দুর্যোগ দিবস) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করে বে রিজ এলাকার মুসলিম বাসিন্দারা। ৪৮ সালে ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলছিল। এ সময় তারা গাজা যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য ও স্লোগান দেয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করে। সেখানে উপস্থিত থাকা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কেটি স্মিথ আল জাজিরাকে বলেন, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল শুরু করে এবং এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ পাশের রাস্তা ধরে এসে তাদের বাধা দেয় এবং গণহারে আটক করতে শুরু করে। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।
তারা আটককৃতদের মাটিতে ফেলে পেটায়, শরীরের ওপরের অংশ এবং মাথায় ঘুষি মারে।
ওই সাংবাদিক বলছিলেন, দফায় দফায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ধরপাকড় চলে।
স্মিথ বলেন, পুলিশের এমন বর্বর আক্রমণে স্থানীয় কমিউনিটি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কারণ দশকের পর দশক ধরে বে রিজে ফিলিস্তিনপন্থিদের এমন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখে আসছিল তারা। কিন্তু কখনো পুলিশকে এমন বর্বর আচরণ করতে দেখেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শত শত লোক বিক্ষোভ করছিল। তাদের মধ্যে অন্তত এক ডজন লোককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের টেনেহিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। অন্য লোকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করছে। হাতকড়া পরা এক সারি লোককে একটি প্রিজন ভ্যানে তুলতে দেখা যায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে প্রচন্ড বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে পুলিশ শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে।
নাকবার ৭৬তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শহর ওয়াশিংটনেও কয়েকশ’ লোক বিক্ষোভ করেছে। তাদের মধ্যে ইহুদিরা ছিল। বৃষ্টির মধ্যে তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ করে।
ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হাইডি জো ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘তারা ফিলিস্তিনি আমেরিকান। তারা ফিলিস্তিনের সমর্থক। তারা রাজধানী শহরে এসেছে বিক্ষোভ দেখাতে। তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চেয়ে স্লোগান দেন এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।
আমেরিকান মুসলিম ফর ফিলিস্তিন (এএমএফ) নামের অধিকারকর্মীদের একটি গ্রুপের সদস্য মোহাম্মদ হাবেই বলছিলেন, ‘আমরা মানুষকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘এই সংঘাত নিয়ে এখানে যা বলা হচ্ছে, আমরা দেখছি তার সবই ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষে।’