প্রথম ভোটে প্রথম চুমুর স্বাদ!

জার্মানির জাতীয় নির্বাচনে ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮। ন্যূনতম বয়স ১৬ করার দাবি বেশ আগে উঠলেও সংবিধানে পরিবর্তন না এনে তা সম্ভব নয়। তাই এখনো বয়স ১৮ হলেই কেবল জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন জার্মানরা। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিয়ম শিথিল করেছে ছয়টি রাজ্য। সেই ছয় রাজ্যে বয়স ১৬ হলেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায়।

আসন্ন ইইউ নির্বাচনে বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, গ্রিস এবং মাল্টার ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীরাও প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে। প্রথমবার ভোট দিতে দেওয়ার অধিকার পেয়ে তরুণরাও দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের কাছে তারা প্রকাশ করেছেন তাদের অনুভূতি। 

জার্মানিতে নানা জায়গায় দেখা যাচ্ছে ‘প্রথম চুমু, প্রথমবার, প্রথম ভোট’ লেখা পোস্টার। বলা বাহুল্য, পোস্টারগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আগামী ছয় থেকে নয় জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের কথা ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের জানানোর জন্যই তৈরি। পোস্টারটি তৈরি করেছেন জার্মানির তিন মিডিয়া ডিজাইন শিক্ষার্থী মায়া স্টাইনবাখ, মারিয়া ভিক্টোরিয়া এবং ফাবিয়ান নাভারো।

জার্মানিতে ইতিমধ্যে এক হাজারের মতো পোস্টার লাগানো হয়েছে। ইইউভুক্ত সব দেশেই লাগানো হচ্ছে এই পোস্টার। স্টাইনবাখ, মারিয়া ভিক্টোরিয়া এবং ফাবিয়ান নাভারো জানান, ইইউ সদস্য দেশগুলোর জন্য ছয় ধরনের পোস্টার ছাপা হয়েছে। তারা মনে করেন, এসব পোস্টারের মাধ্যমে কিছু কিশোর-কিশোরীকেও আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই তাদের উদ্যোগ সার্থক হবে।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে জার্মানির মধ্য-বামপন্থি সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডির পরিবেশ নীতিমালা বিষয়ক মুখপাত্র দেলারা বুরখার্ডট ১৬ বছর বয়সি জার্মানরা ইইউ নির্বাচনে ভোটের অধিকার পাওয়ায় খুব খুশি। তিনি জানান, ১৬ বছর বয়সে তিনি নিজেও রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তবে আইন অনুকূলে না থাকায় তখন তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ২০১৯ সালে ২৬ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী জার্মান রাজনীতিবিদ হিসেবে ইউরোপীয় সংসদের সদস্য হন। তবে তার আফসোস, ১৬ বছরে ইইউ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিয়ম আরও আগে হয়নি, হলে তার কিশোরী মনও গণতন্ত্র চর্চায় অংশ নেওয়ার আনন্দ পেত।