ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়ার প্রথম পর্যায় শুরু করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নির্দেশে প্রথমবারের মতো এ মহড়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মহড়ার প্রথম ধাপে ইস্কান্দার এবং কিনজাল ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মহড়াগুলো দেশটির দক্ষিণ সামরিক এলাকাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রয়েছে। তবে মহড়ার সঠিক অবস্থান এবং সময় মন্ত্রণালয় জানায়নি বলে গতকাল বুধবার উল্লেখ করেছে আলজাজিরা এবং রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যম দুটি বলছে, মহড়ার প্রথম ধাপে ইস্কান্দার ও কিনজাল ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এ ছাড়া নন-স্ট্র্যাটেজিক বা অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হবে মহড়ায়। এই সামরিক মহড়ায় রাশিয়ার সাউদার্ন মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পারমাণবিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধে পশ্চিমাদের বিরত রাখতে পুতিনের সতর্ক সংকেত হিসেবে এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু সেনা পাঠায়নি তারা। কিছুদিন আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইউরোপীয় সেনা পাঠানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। আর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছিলেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য লন্ডনের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করার অধিকার ইউক্রেনের রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া ফেডারেশনের বিরুদ্ধে কিছু পশ্চিমা নেতাদের উসকানি এবং হুমকিমূলক কথাবার্তার জবাবে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই এই মহড়ার উদ্দেশ্য।
রাশিয়া গত বছর বলেছিল, কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করছে তারা। সেখানে বেলারুশও থাকবে বলে দুই দেশই জানিয়েছিল। শত্রুদের প্রতি তাক করা অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো কৌশলগত অস্ত্রের চেয়ে কম শক্তিশালী হলেও বিশাল ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।