দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে রাইডচালক মিজানুর রহমান সুমনকে বিয়ে করেন বিলকিস (২৬)। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে সংসারও শুরু করেন তারা। কিন্তু যাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন, সেই স্বামীর নিষ্ঠুর পরিকল্পনার বলি হবেন তা কল্পনায়ও ভাবতে পারেননি বিলকিস। ১৯ মে নিজের গাড়িতে করে ঘুরতে বেরিয়ে স্বামীর হাতেই নিষ্ঠুরভাবে হত্যার শিকার হন তিনি।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বিলকিসকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত মিজানুর রহমান সুমনকে গাজীপুরের বাসন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন র্যাব-১ সদস্যরা। গতকাল বুধবার দুপুরে উত্তরা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোসতাক আহমেদ।
মোসতাক আহমেদ জানান, বিয়ের আগে বিলকিস জানতেন না সুমনের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর বিলকিসকে তুরাগের রানাভোলার আগের স্ত্রীর বাসা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নয়াপাড়ায় আরেকটি বাসা ভাড়া করে দেন। সম্প্রতি আর্থিক অনটন নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিলকিস তার খরচ আরও বাড়াতে বলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বাগ্্বিত-া হয়। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে সুমন পরিকল্পনা করেন বিলকিসকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার। এরপর কয়েক দফা ঘুরতে যাওয়ার নাম করে হত্যার মিশনে ব্যর্থ হন সুমন। ১৯ মে দুপুরের পর সুমন বিলকিসকে নিয়ে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে যান। পথে তারা চা পান করেন। ঘোরাঘুরির মধ্যে জায়গা ও সুযোগ খুঁজতে থাকেন বিলকিসকে কোথায় হত্যা করা যায়। একপর্যায়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইদিন বিকেল ৪টার পর পূর্বাচলের ২৪ নম্বর সেক্টরে একটি ঝোপে নিয়ে গাড়িটি থামান। গাড়ি থেকে নামার পর ব্যাকডালা থেকে একটি পাইপে পেট্রোল ভরেন। ওই পেট্রোল বিলকিসের গায়ে ছুড়ে সঙ্গে সঙ্গে দেশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। নিষ্ঠুর ও নৃশংসভাবে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর জীবন বাঁচার আকুতি জানিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। আশপাশ এতটাই নির্জন যে, তার চিৎকার কেউ শুনতে পারছিল না। ওই অবস্থায় বিলকিসকে ফেলে গাড়ি নিয়ে দ্রুত চলে যান সুমন।
লে. কর্নেল মোসতাক আহমেদ আরও জানান, বিলকিসের ডাক চিৎকারে একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং বিলকিসকে একটি ড্রেনের মধ্য থেকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ২০ মে সকাল ৯টায় অসহ্য পোড়াযন্ত্রণা নিয়ে বিলকিস মারা যান। ঘটনার পর থেকেই সুমন আত্মগোপনে চলে যান। র্যাব-১ সদস্যরা ছায়া তদন্ত শুরু করেন এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় র্যাব জানতে পারে সুমন গাজীপুরের বাসন এলাকায় আত্মগোপনে আছেন। পরে বাসনের নাওজোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে গ্রেপ্তার সুমন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।