গাজায় মসজিদে ইসরায়েলি হামলা শিশুসহ নিহত ১৬

ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে একটি মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছে শিশুসহ অন্তত ১৬ জন। গত বুধবার গাজা নগরীর উত্তরাঞ্চলের ফাতিমা আল-জাহরা মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আলজাজিরা জানাচ্ছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন শিশু রয়েছে। এদিকে আগের ২৪ ঘণ্টায় গাজা ও পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেছে আর ৯১ জনের।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা থেকে বাদ যায়নি আবাসিক ভবন, শরণার্থীশিবির, হাসপাতাল, মসজিদ। এমনকি ত্রাণ বহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য, কয়েক মাস ধরে চলা হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ৩৫ হাজার ৮০০ জন এবং পশ্চিমতীরে নিহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু। উদ্বাস্তু হয়েছে লাখো ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে কয়েক হাজার বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছে। তারা নিহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে দুই দিনের অভিযানে ১২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানেও গেল কয়েক মাসে নিহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ।

আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়কে সামনে রেখে ইসরায়েল গাজার রাফাহ শহরে হামলা বাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গাজায় এবং বিশেষ করে রাফায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের কাছে জরুরি ব্যবস্থা চেয়ে গত সপ্তাহে আবেদন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে আন্তর্জাতিক এই আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছিল। সেই বৃহত্তর মামলার অংশ হিসেবেই দেশটি পরে রাফায় অভিযান বন্ধে এই জরুরি ব্যবস্থা চেয়েছে।

১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগের নিন্দা করেছে ইসরায়েল। তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানায়। তবে আইসিজে ইসরায়েলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের এক আদেশে ইসরায়েলকে গণহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। তবে সামরিক অভিযান বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়নি।

এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা রাফায় অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় সেখানে বাড়তি জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করে আদালতের কাছে। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আরেকটি আদেশ চাওয়া হয়েছে, যাতে ইসরায়েল গাজায় জাতিসংঘ এবং মানবিক সহায়তা সরবরাহকারী সংস্থা, সাংবাদিক এবং তদন্তকারীদের অবাধে প্রবেশাধিকার দেয় সে মর্মে।