শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের জামিন আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করেছে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাজার বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের করা আপিলের ওপর শুনানির জন্য ওইদিন ঠিক করেছে আদালত।
এ মামলায় ড. ইউনূস, গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, দুই পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এমএ আউয়াল এ আদেশ দেন। আদালতে চারজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মামলার বাদী কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল এই চারজন হাজির হয়ে আবেদন করলে আদালত গতকাল পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করে আদেশ দেয়।
আদালত থেকে বেরিয়ে ড. ইউনূস উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেষ বয়সে যেটুকু করে যেতে চেয়েছিলাম, আমাকে সেটুকু করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে টানাহেঁচড়ার মধ্যে রাখা হচ্ছে। এতে দেশের মানুষ ঠকছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই টানাহেঁচড়ার মধ্যে না থাকলে, এই দুর্যোগের মধ্যে না পড়লে আরও প্রচুর কাজ করতে পারতাম। এটা হচ্ছে কেন? আমি কি ঠকছি? আমার ঠকার কী আছে? আমি যা করার করেছি।’
ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘আমরা তো এমন না যে বিরাট ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরি। আমরা শুধু পরামর্শ দিচ্ছি। মানুষকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছি। সেটা আমার কাছে ভালো লাগে। সে অনুপ্রেরণায় অনেক মানুষ সাড়া দেয়। তরুণরা সাড়া দেয়। দুনিয়ার বড় বড় ঝানু ব্যবসায়ী সাড়া দেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভালো লাগে বাংলাদেশের একটি আইডিয়া, একটা কনসেপ্ট, কর্মকান্ড পৃথিবী আগ্রহের সঙ্গে দেখে। দেশের মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস জাগে যে, আমরা ফেলনা জাতি না।’
তবে, গণমাধ্যমে ড. ইউনূসের দেওয়া বক্তব্যের বিরোধিতা করে বাদীপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ড. ইউনূস এ মামলায় একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আর সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। তিনি কথা বলতে পারবেন, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মামলা নিয়ে কথা বলুন।’
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করার অভিযোগে গত ১ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে কারাদ- ও অর্থ দ-াদেশ দেয় ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে চারজনের আপিল ২৮ জানুয়ারি শুনানির জন্য গ্রহণ করে তাদের জামিন দেয় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত শ্রম আদালতের দেওয়া কারাদ-ের রায় স্থগিত করে ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে বাদীপক্ষ কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। গত ১৮ মার্চ এক রায়ে সাজা স্থগিতের আদেশ বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চারজনকে দেওয়া দোষী সাব্যস্তকরণের আদেশ কার্যকর থাকবে। যতক্ষণ তারা জামিনে থাকবেন, তাদের সাজা ও অর্থদ- স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া বিদেশে যেতে হলে চারজনকে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়।