আইসিজের রায়ের পর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল

গাজার রাফায় ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা অমান্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিবিসি জানায়, গত শুক্রবার আইসিজের রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই রাফাহ শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত শাবউরা ক্যাম্পে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের জঙ্গি বিমান। আর গতকাল জাবালিয়ার এক স্কুলে হামলা চালিয়ে ৪৬ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ওই হামলায় আহত হয়েছে নারী-শিশুসহ আরও অন্তত ১৩০ জন। এদিকে বিভিন্ন এলাকায় হামলার তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে উদ্ধারকর্মীরা অভিযানস্থলে পৌঁছাতে পারছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার শুনানিতে গত শুক্রবার হেগভিত্তিক জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আইসিজে ইসরায়েলকে রাফাহ হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে বলার পাশাপাশি রাফাহর মিসর সীমান্ত ক্রসিং মানবিক ত্রাণ প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়া, গাজায় তদন্তকারীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে গাজায় ঢোকার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু ইসরায়েলের এসব নির্দেশ মানার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং আইসিজের রায় ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইসরায়েল বলছে, তাদের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার অধিকার আছে তাদের। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হামাসের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া এবং জিম্মিদের মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে ইসরায়েল। আর রাফাহয় অভিযান সম্পর্কে ইসরায়েল বলছে, সেখানে অবস্থান করা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে বা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় এমনভাবে সেখানে অভিযান চালানো হবে না।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে ধ্বংস করার অঙ্গীকার নিয়ে ইসরায়েল তিন সপ্তাহ আগে রাফাহয় অভিযান শুরু করেছিল। ইসরায়েলি জিম্মিরাও রাফাহতেই আছে বলে বিশ্বাস ইসরায়েলের।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৫০ জন। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৯ জন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাফাহয় হামলা শুরুর পর মাত্র দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে ৯ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি ঘরছাড়া হয়েছে। তারা এখন পানি, খাবার, ওষুধ এবং আশ্রয়ের অভাবে দিন কাটাচ্ছে।