রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা চালক নয়ন হত্যার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. দীন ইসলাম (২০), মমিনুল হক ওরফে মকবুল (৩০) ও মো. আজিজুল হক (৩০)। তাদের সবার বাড়ি জামালপুর জেলায়। আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে ভাঙারির দোকান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন।
এর আগে গত ১৮ মে মাতুয়াইল এলাকার গ্রীন মডেল টাউনের একটি প্লট থেকে এক ব্যক্তির হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি ছিল অটোরিকশা চালক মো. নয়নের (২০)। এই ঘটনায় নয়নের পরিবার থানা মামলা করলে তদন্তে নেমে হত্যায় জড়িত ঘাতককের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, গত ১৪ মে ভাড়ায়চালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি নয়ন। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অটোরিকশা চালক নয়ন নিখোঁজের দিন সেই রিকশার বডি ও হুডসহ দুই যাত্রীকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার টহল পুলিশ। আটক যাত্রীরা ময়লার স্তূপের মধ্যে এগুলো কুড়িয়ে পেয়েছেন বলে জানালে রিকশার বডিতে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রিকশার মালিককে ডাকা হয়। তিনি এসে রিকশা হুড ও বডি নিয়ে যান। এ ঘটনার চারদিন পর নয়নের মরদেহ উদ্ধার ও এর আগে রিকশার বডি ও হুড উদ্ধার হওয়ায় হত্যায় জড়িদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার আজিজুল হকের দোকান থেকে অটোরিকশার ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দীন ইসলাম ও মকবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে ইকবাল হোসাইন জানান, গত ১৪ মে গ্রেপ্তারকৃত মকবুল এবং পলাতক মিজান ওরফে নিজামসহ কয়েকজন মিলে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্রীন মডেল টাউন যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা থেকে ৮০ টাকা ভাড়া ঠিক করে নয়নের রিকশায় ওঠে। রিকশাটি গ্রীন মডেল টাউনে পৌঁছলে মিজান চালক নয়নের গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে নিচে ফেলেন। তখন দীন ইসলাম রশি দিয়ে নয়নের দুইপা বেঁধে ফেলেন। মকবুল দুই হাত বাঁধেন। পরবর্তীতে মুখে গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী ছনক্ষেতের ভেতরে ফেলে দেন। সবাই মিলে রিকশাটি নিয়ে ধলপুরে চলে আসেন। ধলপুরে এসে ছিনতাইকারীরা রিকশার ব্যাটারি, মোটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আজিজুল হকের কাছে মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। গ্রেপ্তার দীন ইসলাম এবং ভাঙারি দোকানদার আজিজুল হক ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।