গুনাহমুক্ত জীবন গড়তে ১০ আমল

একজন মানুষের চূড়ান্ত সফলতা হলো পরকালে জান্নাত লাভ করা। আর পরকালে জান্নাত লাভের জন্য দুনিয়ায় গুনাহমুক্ত জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। আদর্শ মুমিন মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো দুনিয়ার জীবনে পাপ-পঙ্কিলতায় না জড়িয়ে সর্বদা মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর নির্দেশিত পথে চলা। কেননা মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর আদেশ-নিষেধ অমান্য করাই গুনাহ। স্বভাবগতভাবে মানুষ গুনাহ প্রবণ। তাছাড়া শয়তানের ধোঁকা, নফসের প্ররোচনা ও পরিবেশের কারণে নানা ধরনের অন্যায়ে জড়িয়ে কম-বেশি সবাই গুনাহ করে ফেলে। গুনাহ থেকে মুক্তি লাভের দশটি আমল রয়েছে। সেগুলো তুলে ধরা হলো।

তওবা করা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই নিজ বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কিছু করো তা তিনি জানেন।’ (সুরা শুরা ২৫) এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী ওই ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহ নেই।’ (ইবনে মাজাহ ৪৩৯)

ইসতেগফার করা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।’

(সুরা নুহ ১০)

বালা-মুসিবত : যাপিতজীবনে বিভিন্ন কারণে মানুষের জীবনে নেমে আসা বালা-মুসিবতের কারণেও বান্দার গুনাহ মাফ হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু সাইদ খুদরি ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে সব যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের দ্বারা মহান আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ বুখারি ৫৬৪১) অপর হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তি যদি নিজের ওপর নেমে আসা বালা-মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করে, তাহলে সে মহান আল্লাহর সঙ্গে গুনাহমুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করবে।’ (সুনানে কুবরা)

পশু-পাখির ওপর দয়া করা : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ব্যভিচারিণীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কারণ, একদা সে একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে দেখতে পেল কুকুরটি একটি কূপের পাশে বসে হাঁপাচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, পানির পিপাসা তাকে মুমূর্ষু করে দিয়েছিল। তখন সেই নারী তার মোজা খুলে ওড়নার সঙ্গে বাঁধল। অতঃপর সে কূপ হতে পানি তুলল এবং কুকুরটিকে পানি পান করাল। এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।’ (সহিহ বুখারি)

দান করা : দান-সদকা করার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরাআনে বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো তবে তা ভালো। আর যদি গোপনে দান করো এবং অভাবগ্রস্তকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো। তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে   দেবেন। আর তোমরা যে আমল করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।’

(সুরা বাকারা ২৭১)

জিকির করা : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ দৈনিক ১০০ বার পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা পরিমাণ হয়। (সহিহ বুখারি)

মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা : হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তুমি যেখানে থাকবে আল্লাহকে ভয় করবে। কোনো কারণে মন্দ কাজ হয়ে গেলে পরক্ষণে ভালো কাজ করবে। ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। আর মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করবে। (সুনানে তিরমিজি)

রোজা রাখা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।

(সহিহ মুসলিম)

তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাহাজ্জুদের প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সালেহীনের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশী মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা প্রদানকারী।’ (সুনানে তিরমিজি)

অন্যকে দিয়ে দোয়া করানো : অন্যকে দিয়ে দোয়া করানো গুনাহ মাফের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অনেক ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে, সাহাবায়ে কেরাম অন্যের কাছে দোয়া চাইতেন, দোয়া করাতেন, যেমন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ছোট-ছোট বাচ্চাদের বলতেন, এই বাচ্চারা! তোমরা দোয়া করো, আল্লাহ যেন আবু হুরায়রাকে মাফ করে দেন। তারা যখন দোয়া করতেন, আবু হুরায়রা আমিন, আমিন, বলতেন।’ (জামেউল উলুম)