ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে বরগুনার ৩ শতাধিক গ্রাম। গাছ উপড়ে ও বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বরগুনার ৬টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে মাছের ঘের, নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। ভোগান্তির শেষ নেই বানভাসি ও ক্ষতিগ্রস্ত ৫ লাখ মানুষের। রেমাল তাণ্ডবে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া অনেকেই রয়েছে এখন খোলা আকাশের নিচে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ঘূর্ণিঝড় রেমাল তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ লাখ মানুষ। উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে ও বৃষ্টিতে বরগুনার বিষখালী ও পায়রা নদী সংশ্লিষ্ট ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ৬ উপজেলার ৩ শতাধিক গ্রাম। জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে ৪ হাজার ১৫৭ হেক্টর মাছের ঘের। সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৭৪টি ঘর ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৪টি ঘর। কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর।
সরেজমিনে প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্নার সরঞ্জামসহ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পরিবার না খেয়ে দিনানিপাত করছেন। ঘরের মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তির অন্ত নেই পরিবারগুলোর। তবে জোয়াওে প্লাবিত হলেও ভাটা পুনরায় শুকিয়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে অধিকাংশ এলাকায়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো ত্রাণ না পৌঁছানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বরগুনা সদর উপজেলার মাছখালী গ্রামের আলেয়া বেগম বলেন, বইন্না দেই আশ্রয় কেন্দ্রে গ্যাছালাম। আশ্রয় কেন্দ্র অইতে আইয়া দেহি ঘরের ওপর গাছ পইরা সব শেষ হইয়া গেছে। মোগো এহন থাহার কোনও জায়গা নেই।
বড়ইতলা এলাকার গৃহবধু নাজমা বেগম বলেন, বইন্নায় ঘরের মধ্যের সব মালামাল নষ্ট হইয়া গেছে। চুলা নাই, চাউল নাই যে রান্না কইরগা কিছু খামু। কেউ আইয়া খোঁজ নেলো না আমরা কেমনে বাইচ্চা আছি।পোলা মাইয়ার মুহে এহন পর্যন্ত দুইডা ভাত-ডাইল তুইল্লা দেতে পারি নাই।
বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল বলেন, মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। পুকুর ভর্তি মাছ ছিল বইন্না আইয়া সব লইয়া গেল। চোখের সামনে যখন দেখি ঘেরের মাছ পানির সাথে উঠে যাচ্ছে তখনো কিছুই করতে পারিনি। এই ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠব বলতে পারি না।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, বরগুনা সদর, আতমলী ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে সেখানে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, মাছের ঘের, গাছপালা ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটিই চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নয়। পরিবর্তিতে সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হবে।