গাজীপুরে ইছালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে ৮১ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ পারভীনের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে তিন নারীসহ ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ জুন ওই স্কুলের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রার্থী রীনা আক্তার জানান, ফরম বাবদ ১০০ এবং জামানত বাবদ ২ হাজার টাকা করে বিনা রসিদে নিয়ে গত ২০ মে মনোনয়নপত্র জমা নেন প্রধান শিক্ষক। তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ মিলিয়ে ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ২৬ মে ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তের শেষ দিন। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা রাফিয়া সুলতানা। রীনা আক্তার আরও বলেন, মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ পারভীন তাকে আলাদা কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্বাচনী খরচ বাবদ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।
একই অভিযোগ করে প্রার্থী আজমত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক তাকে ডেকে নিয়ে আলাদা কথা বলেন। নির্বাচনে ৮১ হাজার টাকা ব্যয় হবে জানিয়ে প্রত্যেক প্রার্থীর ১৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে তার কাছেও ওই টাকা দাবি করেন। শুনেছেন ছয়জনের কাছেই টাকা চেয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ পারভীন জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা যে হারে ভাতা পেয়েছেন, ওই হারে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং, পোলিং ও রিটার্নিং অফিসারের সম্মানী ধরলে ৮১ হাজার টাকা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ফান্ড না থাকায় প্রার্থীদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি স্কুলের এক প্রধান শিক্ষক বলেন, নির্বাচনের জন্য সরকারি কোনো ফান্ড নেই। রীতি অনুযায়ী নির্বাচনী খরচ প্রার্থীদের কাছ থেকে জামানত নিয়ে মেটানো হয়। তাই বলে নির্বাচনী ব্যয় কোনোভাবেই ৮১ হাজার টাকা হওয়ার কথা নয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলারা জামান ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাফিয়া সুলতানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।