ঘূর্ণিঝড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যার ভয়াবহ থাবায় সারা দেশের নদী এলাকার মানুষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ আবার ঘর ছাড়া। অনেকেই পানিবন্দি হয়ে আছে। কাটছে মানবেতর জীবনযাপন। এ মুহূর্তে তাদের প্রয়োজন শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধের।
সংবাদ সূত্র বলছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে হাতিয়ায় ৫২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং ৫০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি। এ তো গেল শুধু এক এলাকার চিত্র। বাকি অন্যদের কী অবস্থা, তা আল্লাহতায়ালা ভালো জানেন।
আমরা যারা এমন দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্ত, তাদের উচিত এমন পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষিত থাকার কথা চিন্তা করে মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তিনি আমাদের হেফাজত করেছেন। বাঁচিয়েছেন নানা ধরনের ক্ষতি থেকে। আমরা যদি মহান আল্লাহর প্রতি এখনো কৃতজ্ঞ না হই, হতে পারে এমন কোনো বিপদের মুখোমুখি আমরাও হতে পারি। আল্লাহতায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।
এই দুর্দিনে আমাদের প্রত্যেক সচ্ছল ও সামর্থ্যবানদের উচিত হলো দুর্যোগে বিপর্যস্তদের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত এসব ভাইবোনদের জন্য ত্রাণ-সাহায্যের ব্যবস্থা করা। তাদের প্রতি সেবার হাতকে বাড়িয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমরা কল্যাণ ও খোদাভীতির কাজে একে অপরের সহযোগী হও।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত ০২)
সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আসনি। সে বলবে, হে প্রভু! কীভাবে আমি আপনাকে দেখতে যাব? আপনি তো সমগ্র জগতের পালনকর্তা। তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে? তিনি বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাওনি। সে বলবে, হে প্রভু! আমি আপনাকে কীভাবে খাবার দেব? আপনি তো সমগ্র জগতের পালনকর্তা। মহান আল্লাহ বলবেন, তোমার কি জানা ছিল না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি। তোমার কি জানা ছিল না যে, যদি তাকে খাবার দিতে, তাহলে অবশ্যই তা আমার কাছে পেতে? তিনি বলবেন, হে আদম সন্তান! তোমার কাছে পানি পান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্রভু! আপনাকে কীভাবে পানি পান করাব? আপনি তো সমগ্র জগতের প্রভু। তিনি বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তাকে পানি পান করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে।’ (সহিহ মুসলিম)
হাদিসটি আমাদের এ শিক্ষা প্রদান করে যে, আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব, অনাহারের মুখে খাবার তুলে দেব, আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসব এবং সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আর এখন আমরা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই মহান সুযোগটুকু গ্রহণ করতে পারি। একদিন আমাদের এই অর্থ-সম্পদ কোনো কাজে আসবে না। সেদিন আসার আগেই আসুন আমরা এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথকে সহজ করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ জাতীয় দুর্যোগ থেকে হেফাজত করুন। ক্ষতিগ্রস্তদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমরাও যেন তাদের সহযোগী হতে পারি, তিনি আমাদের সেই সুযোগ দান করুন। আমিন।