পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পেয়েও ইউক্রেন রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার মুখে অসহায় হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতির জন্য ইউক্রেন একটি শর্তকে দায়ী করছে, যার আওতায় ইউক্রেন পশ্চিমা অস্ত্র একমাত্র অধিকৃত এলাকায় প্রয়োগ করতে পারে। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে সেই অস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু এখন সেই শর্ত তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলেটবার্গ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের পর এবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও ইউক্রেনকে নিঃশর্তে পশ্চিমা অস্ত্র প্রয়োগের অধিকারের ইঙ্গিত দিলেন। অবশ্য রাশিয়া বরাবর এমন পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে।
ডয়চে ভেলে বলছে, কিছুদিন ধরেই রাশিয়া সীমান্তের কাছে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ইত্যাদি ব্যবহার করে চলেছে। ইউক্রেন নিজস্ব ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে বিচ্ছিন্ন হামলার চেষ্টা করেও তেমন সাফল্য পাচ্ছে না। এর প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলেটবার্গ সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা অস্ত্রের বিনিময়ে ইউক্রেনের ওপর চাপানো সেই শর্ত তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জার্মানিতে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে চ্যান্সেলর শলৎসের সঙ্গে যৌথভাবে সেই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ডয়চে ভেলে বলছে, তাদের মতোই গত বুধবার মলদোভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন বলেন, মার্কিন প্রশাসন ইউক্রেনের বাইরে কোনো লক্ষ্যবস্তুর ওপর মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে সহায়তা বা উৎসাহ দেয়নি। ইউক্রেনকেই নিজস্ব প্রতিরক্ষার স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্লিঙ্কেন বলেন, রাশিয়ার হামলার শুরু থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী মার্কিন প্রশাসন ধাপে ধাপে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা করে এসেছে। রাশিয়ার পদক্ষেপের ওপরও সেই সহায়তা নির্ভর করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নভেম্বর মাসের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় হলে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে এখনই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য চাপ বাড়ছে।
ডয়চে ভেলে বলছে, খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার হামলার প্রেক্ষাপটে ন্যাটো ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সে বিষয়ে আলোচনা করছেন। এ ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বে ইউক্রেনের জন্য এক হাজার কোটি ইউরোর যে সহায়তা প্যাকেজ স্থির করা হয়েছে, তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর হাতে হস্তান্তরের বিষয়ে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হলে ন্যাটো এই প্রথম সরাসরি ইউক্রেনে ‘লিথাল’ বা আক্রমণাত্মক অস্ত্র হস্তান্তরের দায়িত্ব নেবে।
অবশ্য ইউক্রেনের সহায়তায় ন্যাটোর বাড়তি পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছে রাশিয়া। রাশিয়ার ভূখণ্ডে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহারে ছাড়পত্র, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হস্তান্তর এবং ন্যাটোর পক্ষ থেকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহের মতো পদক্ষেপের ফলে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মস্কো সাবধান করে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চীনের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, চীন বর্তমান সংকটের মূল কারণ দূর করার পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছে, রাশিয়া তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে। তবে রাশিয়া এমন প্রস্তাবিত আলোচনার ক্ষেত্রেও ইউক্রেনের ভূখণ্ডে অধিকৃত এলাকার ওপর কর্র্তৃত্বের স্বীকৃতি দাবি করছে বলে শোনা যাচ্ছে। ইউক্রেন শুরু থেকেই সেই প্রস্তাব নাকচ করে আসছে।