সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এক মাসের কিছু বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারিক কর্মদিবসের শেষ দিনে তাকে দেওয়া বিদায় সম্ভাষণের সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন বেতনভোগী কর্মকর্তা কীভাবে শতকোটি টাকার মালিক হন?
বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিথ্যা মামলা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল হাইকোর্টের তিন বিচারক যথাক্রমে বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন তিনজনকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
আগামীকাল শনিবার (১ জুন) বিচারপতি আবদুল হাফিজের কর্মজীবন শেষ হলেও রীতি অনুযায়ী আজ তাকে বিদায়ী সম্ভাষণ দেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বিচারপতির কর্মজীবন উল্লেখ করে সম্ভাষণ জানান। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা এ সময় এজলাসে ছিলেন।
সম্ভাষণের জবাবে বিচারপতি আবদুল হাফিজ বলেন, ‘সম্পদ-সম্পত্তি, অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন ও অধিকার বিষয়ক মোকদ্দমায় প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা হচ্ছে। প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিচার বিভাগকে এর ভার বহন করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়ে এটা মিথ্যা মামলা নির্ধারণ হয়তোবা ঠিকই হচ্ছে। কিন্তু এতে আদালতের প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে। মিথ্যা মামলা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিচারপতি আবদুল হাফিজ বলেন, ‘দুর্নীতি আমাদের সব অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্নীতির ব্যাপকতা অনেক। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাত থেকে অফিস-আদালতকে মুক্ত রাখতে হবে। একজন বেতনভোগী কর্মকর্তা কীভাবে কোটি কোটি এমনকি শতকোটি টাকার মালিক হন তা দেশবাসীকে হতবাক করে। তাই এগুলোকে রোধ করতে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে।’ তিনি কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান, মাদক, সামাজিক অনাচার ও অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নিয়েও কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৭ সালের ১ জুন জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি ১৯৮২ সালে জেলা ও দায়রা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালে ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।