রানওয়েতে শিয়াল, আকাশে বিমানের ২৫ মিনিট চক্কর

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সীমানা দেয়াল পেরিয়ে রানওয়েতে শিয়াল ঢুকে পড়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে বিমানের একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে পারেনি। আকাশে ২৫ মিনিট চক্কর দিয়ে, শিয়াল তাড়িয়ে তারপর অবতরণ করতে হয়েছে উড়োজাহাজটিকে।

এ ঘটনায় রানওয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বিমানযাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

বিমানবন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ফ্লাইট সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু অবতরণের সময় রানওয়েতে একটি শিয়ালকে হাঁটাচলা করতে দেখেন বিমানের পাইলট। তিনি পরিস্থিতি জানিয়ে আকাশেই চক্কর দিতে থাকেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা শিয়ালটিকে তাড়িয়ে দেন। এর ফলে প্রায় ২৫ মিনিট দেরিতে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণ করাতে হয়।

বিমানের যাত্রীদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও নিরাপত্তা দেয়াল পেরিয়ে কীভাবে শিয়াল রানওয়েতে চলে এলো।

আতিকুল ইসলাম নামে এক যাত্রী সাংবাদিকদের জানান, অবতরণ করতে গিয়ে পাইলট উড়োজাহাজটি আবার ওপরে তুলে নেন। এরপর ২৫ মিনিট ধরে আকাশে চক্কর দিতে থাকেন। তখন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবতরণ করার পর জানা যায়, আসল ঘটনা। তিনি বলেন, ভাগ্য ভালো যে উড়োজাহাজ রানওয়ে ছোঁয়ার আগেই পাইলট বিষয়টি বুঝতে পারেন। তা না হলে রানওয়েতে শিয়ালের সঙ্গে বিমানের ধাক্কা লাগলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, বিষয়টি বড় ধরনের কিছু না। ঘটনাটি জানার পর নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কীভাবে সীমানা দেয়াল পেরিয়ে রানওয়েতে শিয়াল ঢুকল, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর এলাকার স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি বিমানবন্দরে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ করে বিমানবন্দরের রানওয়ের নাইট ল্যান্ডিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। রানওয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রা এয়ারলাইনসের একটি করে বিমান যাত্রীসেবা দিতে পারেনি। রাতের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরে ঢাকা থেকে বিমানের প্রকৌশলীরা এসে পরদিন বিকেলে রানওয়ের লাইট সিস্টেম চালু করার পর বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এরপর ২০ মে বজ্রপাতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের রানওয়েতে ফাটল দেখা দিলে সেদিন সকালে বাংলাদেশ বিমানের ড্যাশ-৮ ফ্লাইটটি অবতরণ করতে পারেনি। আগের দিন মধ্যরাতে সৈয়দপুরে বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি হয়। তাতে রানওয়ের দক্ষিণে কিছুটা ফাটল সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরদিন সকাল ৮টার বাংলাদেশ বিমানের ড্যাশ-৮ ফ্লাইটসহ কোনো ফ্লাইট অবতরণের নির্দেশ দেয়নি। মেরামতের পর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট অবতরণ করে। দুপুর দেড়টার পর বাংলাদেশ বিমানের ড্যাশ-৮-এর ফ্লাইট ওঠানামা স্বাভাবিক হয়।

এ ছাড়া গত ২৮ মে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট অবতরণের পর রানওয়েতে উড়োজাহাজের সামনের চাকা আটকে যায়। ওইদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উড়োজাহাজটি রানওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে উত্তরে যাওয়ার সময় সামনের চাকার নোস হুইলে ত্রুটি দেখা দেয়। উড়োজাহাজটি থেমে যাওয়ায় অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। চার ঘণ্টা পর বিমানটি রানওয়ে থেকে সরিয়ে পার্কিং ইয়ার্ডে আনা হয়। এরপর সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে উড়োজাহাজ ওঠানামা স্বাভাবিক হয়।

প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ত্রুটি সারিয়ে রাত ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ মডেলের ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরে যায়।

উল্লেখ্য, ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা ও সৈয়দপুর-কক্সবাজার-সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন ১৮টি বিমান চলাচল করে।