আধিপত্য বিস্তার, ক্রিকেট খেলা ও উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে এক ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে কুপিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মো. হাশেম (৩৫)।
আজ সোমবার (৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার রামকৃষ্ণদী বাজার এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত হাশেম একই উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মো. সুলতান মিয়ার ছেলে ও বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। এ হত্যাকান্ডের জন্য উপজেলা নির্বাচনের পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জাবেদ ওমরকে দায়ী করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের জাবেদ ওমরের সঙ্গে একই গ্রামের মো. জহিরুলের বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের সঙ্গে যোগ হয় গেল ৩১ মে উপজেলার উত্তর পাথরঘাটা গ্রামের পরিত্যক্ত একটি মাঠে হওয়া ক্রিকেট খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি। ওইদিন রামকৃষ্ণদী গ্রামের দুটি টিম ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়। খেলার এক পর্যায়ে দুই টিমের সমর্থক জাবেদ ওমর ও জহিরুলের নেতৃত্বে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। সোমবার সকালে ওই মারামারির বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও বিকেল ৪টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের জামাতা জহিরুল ও গাড়ির চালক হাশেমের উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ জাবেদ ওমরের লোকজন। এ সময় জহিরুল পালাতে সক্ষম হলেও হাশেমকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম যুবরাজ হত্যাকান্ডের জন্য উপজেলা নির্বাচনের পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জাবেদ ওমরকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, শুধু ক্রিকেট খেলা নিয়ে এ হত্যাকান্ড হয়নি। তৃতীয় ধাপে গেলো ২৯ মে অনুষ্ঠিত সিরাজদীখান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলো জাবেদ ওমর। ওই নির্বাচনে সে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। নির্বাচনে আমার মেয়ের জামাই জহিরুল তাকে সমর্থন করেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার জামাতা ও গাড়ির চালকের উপর হামলা করেছে। এ সময় আমার গাড়ির চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।
সিরাজদীখান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মোক্তার হোসেন জানান, ক্রিকেট খেলা নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা হয়। এসময় একজন মারা যান।
সিরাজদীখান সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত বলেন, ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড হয়েছে।