সন্তানের মুখে দুধ দিতে পারছেন না গাজার মায়েরা

  • গাজার ৭২৮০ জন শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজনই ৭২ ঘণ্টায় অন্তত একবার না খেয়ে থাকছে
  • ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৩৬৪৩৯ জন নিহত হয়েছে
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ১০:৪৮ পিএম

সন্তানের জন্য উত্তর গাজার ফার্মেসিতে দুধ খুঁজছিলেন ৩৩ বছর বয়সী আমিরা। কিন্তু এক বোতল দুধও খুঁজে পাননি। আল-আকসা মার্টারস হাসপাতালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে আমিরা বলেন, ‘ইউসুফের (সন্তানের নাম) চিকিৎসা ও দুধ দরকার। কিন্তু গাজায় কোনো দুধ পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে খাওয়াই, কিন্তু দুধ পাওয়া যাচ্ছে না।’ সন্তানকে গম খাওয়ানোর কথা যখন আমিরা জানাচ্ছেন, তখন শিশু ইউসুফ একটি সরু বিছানায় শুয়ে ছিল। তার দুর্বল শরীরে টিউবের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল।

হামাসের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ৩২ জন  অপুষ্টিতে ভুগে মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামাসের ওই হামলায় ইসরায়েলে এক হাজার ১৮৯ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। অপরদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের পাল্টা সামরিক অভিযানে গাজায় ৩৬ হাজার ৪৩৯ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ। গত শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজনই ৭২ ঘণ্টায় অন্তত একবার না খেয়ে সারাদিন পার করেছে। মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা ঢুকতে না পারায় গাজার শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি বেড়েছে।

গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ গাজায় অপুষ্টির জন্য পাঁচ বছরের কম বয়সী ৯৩ হাজার  ৪০০ জনেরও বেশি শিশুকে পরীক্ষা করেছে। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ২৮০ জন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

আল-আকসা মার্টারস হাসপাতালের মায়েরা তাদের অপুষ্ট সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন দিন পার করছেন। ইউসুফ এবং আরেক শিশু সাইফ ভর্তি হওয়ার পর মায়েরা তাদের পাশে বসেছিলেন। হাসপাতালের দেওয়া খাবার খেয়ে তারা কতদিন বেঁচে থাকতে পারবেন এ নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন তারা।

সাইফের মা নোহা বলেন, ‘এখানে যে সাহায্য আসে এবং শিশুদের দেওয়া হয় তার ওপর নির্ভর করতে হয়। সারারাত সে (শিশু সাইফ) কষ্ট পায়। তার অপারেশন হওয়ার কথা থাকলেও সেটা স্থগিত করা হয়েছে।’

হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হাজেম মোস্তফা পরিস্থিতির অবনতির জন্য দক্ষিণের রাফা ক্রসিং বন্ধ করাকে দায়ী করেছেন। ক্রসিংটির মাধ্যমে মিসর থেকে গাজায় ত্রাণ ঢুকত। তবে ইসরায়েলি বাহিনী গত ৭ মে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলে। তারপর থেকে ক্রসিংটি হয়ে কোনো সহায়তা ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেনি। কোনো অসুস্থ বা আহত রোগী মিসরে চিকিৎসার জন্য যেতে পারেনি।

নিজের কার্যালয়ে এক রোগীর এক্স-রে দেখতে-দেখতে ডা. মোস্তফা বলেন, ‘ইসরায়েল শিশুদের জন্য খাবার, বিশেষ করে দুধের প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এর ফলে শিশুদের শরীরে মারাত্মক দুর্বলতাসহ অসংখ্য রোগের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। আমরা প্রচুর পরিমাণ দুধের চাহিদার কথা জানাচ্ছি যাতে মায়েরা তাদের সন্তানদের সুস্থ রাখতে পারেন।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত