ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যা মামলায় শিলাস্তি রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন শিলাস্তির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ ছাড়া সিয়ামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আট দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত শুক্রবার শিলাস্তি রহমানসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালত তাদের প্রত্যেককে আবার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিলাস্তি রহমানকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে ডিবি।
ঢাকায় গ্রেপ্তার মামলার অন্য আসামিরা হলেন সৈয়দ আমানুল্লাহ (প্রকৃত নাম শিমুল ভূঁইয়া) ও ফয়সাল আলী। এই দুই আসামি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
এদিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আখতারুজ্জামানসহ ১০ জনের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য সরবরাহ করার আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, এই হত্যা মামলায় জড়িত ১০ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য সরবরাহ করার আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম ১২ মে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যান। পরদিন কলকাতার নিউটাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে তিনি খুন হন। ওই ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে কলকাতা পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশকে এ তথ্য জানায়। এরপর ঢাকা থেকে শিমুল ভূঁইয়াসহ এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা এবং তার লাশ গুম করার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পায় পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনোয়ারুলকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে সরানো হয়েছে। এর কিছু অংশ কলকাতার একটি খালে ফেলা হয়েছে।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ২২ মে তার বাবাকে অপহরণ করার অভিযোগ এনে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ।