সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদসহ সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দেশ জুড়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এজন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে দলটি। প্রস্তাব এসেছে ঢাকায় দুর্নীতি বিরোধী সমাবেশ করার। গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির বিস্তার নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করেন নেতারা। এ সময় কেউ কেউ ঈদের পরে ঢাকায় দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশ করার প্রস্তাব রাখেন। সমাবেশ করার আগে লিফলেট প্রকাশের পরামর্শ দেন কেউ কেউ। যা সারা দেশে সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে বিতরণ করা হবে।
জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে বিএনপির একটি কমিটি ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। এক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, আর্থিক সেক্টরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের দুর্নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে দলটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। প্রতিবেদনে দুর্নীতিসহ দেশের বর্তমান সংকটও যেমন তুলে ধরা হবে। আবার এই সংকট উত্তরণের উপায় নিয়েও কিছু সুপারিশ থাকবে বলে সূত্রের দাবি।
বিএনপি নেতারা বলছেন, লাগামহীন লুটপাট, অব্যবস্থাপনা এবং অযোগ্যতার কারণে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। দলটির অভিযোগ, ব্যাংকিং ও সেবাখাতসহ প্রায় প্রতিটি সেক্টর এখন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। পাশাপাশি চলছে লুটপাট ও টাকা পাচার। এর সঙ্গে ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ লোকেরাই জড়িত। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
সূত্রগুলো আরও বলছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ও আন্দোলন প্রসঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং তার প্রেক্ষিতে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করার বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। বৈঠকে দল পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়। পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক ইউনিটগুলো পুনর্গঠনের বিষয়ে নেতারা একমত হন। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় কাউন্সিলও করা প্রয়োজন বলে বৈঠকে মতামত এসেছে। তৃণমূল সংগঠনকে চাঙা রাখতে ইতিমধ্যে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনায় সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে বিএনপির তিনটি অঙ্গসংগঠন। সেটি অব্যাহত রাখারও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।