২০২২ সালের শুরুতে টিম প্রিঙ্গলের ছিল সহজ লক্ষ্য। আর সেটা ছিল ক্রিকেটটাকে উপভোগ করা। তাহলেই নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিসট্রিক্টের হয়ে অভিষেকটুকু ঘটে যাবে। তবে তিনি যেটি অনুমান করেননি তা হলো- ভাগ্য। ঘূণাক্ষরেও হয়তো ভাবেননি প্রিঙ্গল যে নিয়তি তার জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছে।
নর্দার্ন ডিসট্রিক্টের হয়ে তখনো অভিষেক হয়নি প্রিঙ্গলের। তার আগেই সুযোগ আসে নিউজিল্যান্ড একাদশের হয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার। নিজের বাঁহাতি স্পিন দিয়ে তিনি শিকার করেন তখনকার ডাচ অধিনায়ক পিটার সিলারের উইকেট। এর পর থেকেই ডাচ ক্রিকেটের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসেন প্রিঙ্গল। জানা যায় ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জন্ম নেয়ার দরুণ ডাচ পাসপোর্টের অধিকারী তিনি।
অবাক করে দিয়ে এর পর প্রিঙ্গল জানতে পান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাচদের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলার দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের জুনের ৯ তারিখ আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইংল্যান্ডের নামজাদা ব্যাটারদের বিপক্ষে ভারি চশমা চোখেই ডাচদের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন প্রিঙ্গল। ৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে সাজঘরে ফেরান লিয়াম লিভিংস্টোনকে।
পরের মাসে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। সেই যে শুরু প্রিঙ্গলের। প্রথার বাইরে থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাতেখড়ির আগেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা প্রিঙ্গল খেলেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২১ বছরের প্রিঙ্গলের কাছে এবারের বিশ্বকাপ তাই দ্বিতীয় আসর। যেখানে প্রথম ম্যাচেই ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বনেছেন, জিতিয়েছেন দলকে।
তার এমন বোলিং নৈপুণ্যের কারণেই ধস নামে নেপালের ব্যাটিং লাইনআপে, পুরো ইনিংস জুড়ে প্রিঙ্গল ঘুর্ণির কোনো জবাবই ছিল না নেপালিজ ব্যাটসম্যানদের কাছে। অথচ দুবছর আগেও প্রিঙ্গল স্বপ্ন দেখছিলেন বাবার পথ অনুসরণের। ঘরোয়া হয়ে ব্ল্যাকক্যাপস জার্সিতে ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ার।
টিমের বাবা, ক্রিস প্রিঙ্গল- যিনি বহুল পরিচিত জিঙ্ক দিয়ে ঠাসা চেহারার জন্য। ১৯৯০ সালে হোবার্টে তার রানশূন্য শেষ ওভারের বদৌলতে ম্যাচ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। কিউই জার্সিতে ১৪টি টেস্ট, ৬৪টি ওয়ানডে খেলে ১৩৩টি আন্তর্জাতিক উইকেট রয়েছে নামের পাশে। ছেলেও হাঁটছেন একই পথে, তবে ভিন্ন কায়দায়। বাবার মতো পেস বোলিংটা বেছে নেননি, করেন স্পিন।
বাঁহাতি অর্থোডক্সে ১৫ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন। তবু সেই অভিষেক ক্ষণের কথা মনে করতেই আবেগী হন প্রিঙ্গল, ‘প্রথমবার আমি যখন ডাচ দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিং করতে নিজের মার্কে দাঁড়াই, ভাবছিলাম, সপ্তাহবাদে ক্লাব ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন ছিল অথচ এখন জেসন রয়, জস বাটলারদের বিপক্ষে বোলিং করতে হচ্ছে। ওই মুহূর্তটা ছিল অভাবনীয়।’
প্রিঙ্গলের শক্তিমত্তার জায়গা তার কিপটে বোলিং। গতবছর পর্যন্তও বাবার মতো নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিল প্রিঙ্গলের। সেটি হয়তো সুপ্তাবস্থায় এখনো আছে। তবে এখন তার সামনে আরও বড় দায়িত্ব। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জেতা হয়ে গিয়েছে। বাকি আছে আরও তিন ম্যাচ, প্রতিপক্ষরাও শক্তিশালী। আসছে ম্যাচগুলোতে প্রিঙ্গলের বাঁ হাতের ভেল্কির ওপর তাকিয়ে রইবে পুরো নেদারল্যান্ডস।