শ্রমবাজার বন্ধ করে দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে মালয়েশিয়া যেতে না পারা তিন হাজার কর্মী তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করেছে। গত ২ জুন গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে কমিটিকে আরও পাঁচ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৯৬ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীকে বৈধতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ওমান সরকার। একই সঙ্গে দেশটি বাংলাদেশ থেকে ১২টি ক্যাটাগরিতে লোক নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের অভিযোগ দেওয়ার সময় ৮ জুন শেষ হলেও, এখনো অভিযোগ গ্রহণ করছে মন্ত্রণালয়। আমরা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, ১০১টা রিক্রুটিং এজেন্সি ও বায়বার থেকে রিপোর্ট নিচ্ছি। মালয়েশিয়ার অনলাইন যে ডিমান্ড এসেছে, তারা কবে পাঠিয়েছে সেটাও আনছি। সে হিসেবে একটু সময় লাগছে। তদন্ত কমিটি একটু সময় চাইছে।’
পাঁচ কর্মদিবস সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের পর আমরা রিপোর্ট নিয়ে বসব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়ার ব্যাপারে আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রত্যেকটা পয়েন্টে, প্রত্যেকটা জায়গায় খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে যা বেরিয়ে আসবে, সেটার ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।’
কর্মীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘টাকাটা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আমরা বসব। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করব যেন সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।’
সিন্ডিকেট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেট এলাও করব না। রিক্রুটিং এজেন্সি যারা অনুমোদিত সবাই কাজ করবে। আমরা চাই, সবাই কাজ করুক, সবার জন্য খোলা থাকুক। আমরা সিন্ডিকেটে বিশ্বাস করি না।’
মালয়েশিয়া গিয়ে কর্মীদের কাজ না পাওয়া এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা কাজ পাচ্ছে না, আমরা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে ডাকব। যারা কাজ দেওয়ার জন্য ডিমান্ড নোট দিয়েছিল, যারা রিসিভার তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব। যদি কাজ না হয় তাহলে আমরা রিক্রুটিং এজেন্টের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
ওমান থেকে সুখবর : সম্প্রতি শ্রমবাজার ইস্যুতে দুবাই, ওমান ও কাতার সফর করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী। ওমান সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওমানে ৯৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের বৈধ করার আশ্বাস দিয়েছে ওমান সরকার। এই বৈধকরণের জন্য একটি জরিমানা নেওয়া হয়। তবে সেই জরিমানাটাও মওকুফ করার জন্য আমরা ওমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।’
এদিকে নতুন করে বাংলাদেশ থেকে ওমান সরকার ১২টি ক্যাটাগরিতে লোক নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওমান দক্ষ কর্মী নিতে চায়। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। দক্ষ কর্মী যাওয়া শুরু করলে অদক্ষ কর্মীও যাওয়া শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সে ব্যবস্থা হবে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দুবাই শ্রমবাজার আরও গতিশীল ও বাড়ানোর লক্ষ্যে দুবাইয়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। দুবাই থেকে ইতিমধ্যে ৩ হাজার কর্মীর চাহিদা এসেছে। এর মধ্যে ৪০০ কর্মী দেশটিতে চলেও গেছেন। আরও ৫০০ কর্মীর যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।