সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটব

মোবাইলশিল্পে করবৃদ্ধি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে জিডিপিতে

মোবাইল সেবা ব্যবহারের ওপর আগামী অর্থবছরে যে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং সিম সংযোগের ওপর ১০০ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করা হয়েছে, তাতে মোবাইল গ্রাহক এবং এ শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতীতে দেখা গেছে, সেবার মূল্য বৃদ্ধি করা হলে গ্রাহকরা মোবাইলের ব্যবহার কমিয়ে দেন। এতে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের কোষাগারেও প্রদেয় অর্থের পরিমাণ হ্রাস পায়। বাংলাদেশ যখন বিশ্ব দরবারে ডিজিটাল সেবা প্রদানে প্রশংসিত হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন করে গ্রাহকদের ওপর আরও করের বোঝা বৃদ্ধি করা হলো। ফলে ১০০ টাকার মোবাইল সেবা ব্যবহারে গ্রাহকদের সর্বমোট কর দিতে হবে ৩৯ টাকা, যা হবে সার্বিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

গতকাল বুধবার দুপুরে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন-অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ঢাকায় বনানীতে সংগঠনটি নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল অপারেটরের প্রতিনিধিরা সদ্য প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলালিংক ডিজিটালের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন এবং অ্যামটব মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার।

বক্তারা বলেন, ‘মোবাইল খাতের নতুন করে করারোপ না করে তাকে যৌক্তিক অবস্থায় আনতে এনবিআরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও, এবার সরকার কর বৃদ্ধি করল অর্থনীতিতে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি। এর আগে আমরা সরকারের কাছে সুপারিশমালা তুলে ধরেছিলাম কিন্তু কোনো কিছুই মানা হয়নি।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য আনুযায়ী, দেশে ১৯ কোটি ২২ লাখ সিমকার্ডধারীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন ১২ কোটির বেশি গ্রাহক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল মিলিয়ে একজন মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক মাসে গড়ে সাড়ে ৬ জিবি ডেটা ব্যবহার করেন। যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মাসে গ্রাহক ব্যবহার করেন ২৭-২৯ জিবি। বাংলাদেশের গ্রাহকরা ভারতের তুলনায় ডেটা ব্যবহারে কয়েকগুণ পিছিয়ে আছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গ্রাহক পর্যায়ের মোবাইল ইন্টারনেট সেবার কর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় ৬ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৭, নাইজেরিয়ায় ৭.৫, সিঙ্গাপুরে ৯, ইন্দোনেশিয়ায় ১১, ফিলিপাইনে ১২, কম্বোডিয়ায় ১৩, ভারতে ১৮, শ্রীলঙ্কায় ২৩.৫, নেপালে ২৬.২, বাংলাদেশে ৩৩.২৫ এবং পাকিস্তানে ৩৪.৫ শতাংশ কর আরোপিত রয়েছে।

স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এখনো টেলিকম সেবার বাইরে রয়েছে দেশের ৪২ শতাংশ জনগোষ্ঠী। বর্তমান মোবাইল সেবা ব্যবহারকারীদের ৬৩ শতাংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ৫৪ শতাংশ ৪জি গ্রাহক। অর্থাৎ বর্তমান মোবাইল সেবা ব্যবহারকারীদের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো মোবাইল ইন্টারনেট সেবা (৩৭ শতাংশ) ব্যবহার করতে পারছে না এবং ৪জি সেবা (৪৬% শতাংশ) ব্যবহারের সক্ষমতাও অর্জন করতে পারেনি। এ খাতে গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব বৃদ্ধির বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

অপারেটররা বলেন, সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব মিলবে। তবে করের পরিবর্তে ডেটা ব্যবহার বাড়িয়ে এ রাজস্ব আদায় সম্ভব। করনীতি স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের বিপরীত দিকেই হাঁটছে। কাজেই মোবাইল সেবার চলমান উন্নয়ন এবং গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রসার বেগবান করতে যৌক্তিক কর কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।