নাটোরের বড়াইগ্রামে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের বরাদ্দের দাবি করা অর্ধেক চাল না পেয়ে শত শত মানুষের সামনে ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আজাদ দুলালকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে ভিজিএফের চাল নিতে আসা উপকারভোগীসহ স্থানীয়রা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মাঝগাঁও ইউনিয়নের ২ হাজার ২৪৯ জন দুস্থ মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণের নির্ধারিত দিন ছিল। দুপুরে চাল বিতরণ শুরুর আগ মুহূর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মাস্টার, ওয়াজেদ আলী, আরিফ, জীবন গাজীসহ ১৫-২০ জন ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর নাম ব্যবহার করে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ কার্ডের চাল দাবি করেন। এ সময় সেসব চাল তাদের অনুসারীদের মধ্যে নিজেরা বণ্টন করবেন বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু চেয়ারম্যান তা দিতে অস্বীকার করলে তারা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দরজা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে চেয়ারম্যানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত করে ও তার কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। পরে তারা চেয়ারম্যানকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে শত শত লোকের সামনে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এ সময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে দুই ইউপি সদস্য আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে।
এদিকে, চেয়ারম্যানকে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করের বিক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা। এ সময় অবরোধের দুই পাশেই শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে বেলা পৌনে ২টার দিকে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলু, বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলাকারীদের আটকের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা।
মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আজাদ দুলাল বলেন, ‘এমপি সাহেবের (ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী) লোকজন কয়েক দিন আগে কিছু লোকের তালিকা দিয়েছেন। সেসব লোককে আমরা কার্ড দিয়েছি। আজ তারা আবার এসে চালের কার্ডের ৫০ পার্সেন্ট চাল দাবি করেন। এভাবে চাল দেওয়া সম্ভব না বলতেই তারা আমাকে মারধর শুরু করেন। আমি হাসপাতালে রয়েছি। এখান থেকে ফিরে থানায় অভিযোগ করব।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আহত চেয়ারম্যান থানায় এসেছেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনব।’
সংসদ সদস্য ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘বাজেট অধিবেশন চলায় আমি ঢাকায় আছি। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত আমি জানি না। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’