স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় কারাগারে উপজেলা চেয়ারম্যান

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়ের করা নির্যাতনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে সরাবন তহুরা এ আদেশ দেন।

এর আগে চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রকিবউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত সহসভাপতি মাকসুদ হোসেন গত ৮ মে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

নির্বাচনের আগে গত ২৩ এপ্রিল মাকসুদের দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা বেগম তার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলা নথিভুক্ত করে বিষয়টি তদন্তের জন্য বন্দর থানাকে নির্দেশ দেয়। পরদিন বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, মাকসুদ হোসেন ১৯৯৮ সালে সুলতানা বেগমকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সুলতানা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। মাকসুদ এর আগে বিয়ে করলেও সুলতানা তা জানতেন না। সুলতানা বেগমের অভিযোগ, তাদের বিয়ের দুই বছর পর মাকসুদ তার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে টাকা আনতে চাপ দেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে মাকসুদ মেয়েসহ তাকে বাবার বাড়ি রেখে যান। পরে মাকসুদ মাঝেমধ্যে যোগাযোগ করতেন। এরপর ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন সুলতানা।

ওই মামলা আদালতে বিচারাধীন জানিয়ে সুলতানা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২১ এপ্রিল তার স্বামী কয়েকজন বন্ধুসহ তার শ্বশুরবাড়িতে এসে আগের যৌতুকের মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। এতে তিনি ও তার মেয়ে প্রতিবাদ করলে মাকসুদ তাদের মারধর করেন।