রাসেলস ভাইপার ধরলেও পুরস্কার দেবে না ফরিদপুর আ.লীগ

রাসেলস ভাইপার সাপ (চন্দ্রবোড়া) মারতে বা জীবিত ধরতে পারার জন্য কোনো পুরস্কার নেই বলে এবারে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ। প্রথমে কেউ রাসেলস ভাইপার মারতে এবং পরে জীবিত ধরতে পারলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। সমালোচনার মুখে তিন দিন পর গতকাল রবিবার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন তারা।

গতকাল দুপুরের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে এ পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহার করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভার বিবিধ আলোচনায় শামীম হক ফরিদপুরে  কেউ রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ এ ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, শুধুমাত্র কোতোয়ালি থানার মধ্যে কেউ এই সাপ মারতে পারলে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। আমাদের সভাপতি সাহেব এই টাকা দেবেন। এ ঘোষণার পর বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুরস্কার পেতে বিভিন্ন জায়গায় সাপ মারা শুরু হয়।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের পুরস্কার ঘোষণার পর বন বিভাগের পক্ষ থেকে এটি আইনসিদ্ধ নয় বলে জানানো হলে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। এরপর রাসেলস ভাইপার সাপ মারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা থেকে সরে এসে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, জীবিত অবস্থায় রাসেলস ভাইপার ধরতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আলী আশরাফ পিয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন কেউ যদি নিজেকে রক্ষাকারী পোশাক সংবলিত হয়ে এবং সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক জনস্বার্থে রাসেলস ভাইপার সাপটি জীবিতাবস্থায় ধরতে পারেন, তবে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে।’ এরপর আবার জীবিত সাপ ধরায় উৎসাহ তৈরি হয়।

এরপর শনিবার সকালে পদ্মার চর থেকে একটি জীবিত রাসেলস ভাইপার ধরেন রেজাউল নামে এক তরুণ। সন্ধ্যায় পাতিলের মধ্যে সাপটি নিয়ে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে হাজির হন তিনি। রেজাউল বলেন, ‘সকালে চরের মধ্যে থেকে (সাপটি) ধরছি। সাপটা হাইট্যা যাইতেছিল। গায়ের গেঞ্জি ছুড়ে ওকে ধরছি। নেতারা পুরস্কার ঘোষণা করছেন। এজন্য রিস্ক নিয়ে ধরছি। এখন বন বিভাগে জমা দিতে আইছি।’ তবে গতকাল দুপুরে ফরিদপুরের বন বিভাগের অফিসে গেলে তাকে সাপসহ ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করাটাই তো অবৈধ। মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। আমরা এটা প্রমাণ করতে যাব কেন? ওই কৃষকের উচিত হবে যেখান থেকে সাপটি ধরেছে ওই স্থানে ছেড়ে দেওয়া।’

এরই মধ্যে গতকাল দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানিয়ে সবাইকে রাসেলস ভাইপার সাপ মারা বা ধরার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাসেলস ভাইপার একটি আলোচিত বিষয়, পাশাপাশি জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি অত্যন্ত বিপদজনক বিধায় যেকোনো পুরস্কার বা কৌতূহলবশত এ সাপ নিয়ে অতি উৎসাহী হবেন না। জীবিত বা মৃত কোনো প্রকার রাসেলস ভাইপারের জন্য কোনো পুরস্কার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাপ দেখলে তা ধরা বা মারার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করুন অথবা নিকটস্থ বন বিভাগের অফিসকে অবহিত করুন।’

চারঘাটে রাসেলস ভাইপারের ৮টি বাচ্চা মারলেন এলাকাবাসী : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামে রাসেলস ভাইপার সাপের আটটি বাচ্চা পিটিয়ে মেরেছে এলাকাবাসী। গতকাল দুপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামটিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

রবিউল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘গ্রামের কুঠিপাড়া গ্রামের অচিনতলা এলাকায় একই জায়গায় প্রথমে দু-তিনটি সাপের বাচ্চা দেখা যায়। এরপর এলাকাবাসী মারতে গিয়ে একে একে ৮টি বাচ্চা দেখতে পান। পরে সবগুলোকে পিটিয়ে মারা হয়।’

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অচিনতলা এলাকায় ৮টি রাসেলস ভাইপার সাপের বাচ্চা মেরেছেন এলাকাবাসী। আর পুলিশ একাডেমির ভেতরেও বেশ কয়েকটি সাপের বাচ্চা মারা হয়েছে বলে শুনেছি।’

মাদারীপুরে দুই দিনে পাঁচটি সাপ পিটিয়ে হত্যা : মাদারীপুর শহরের গোরন চত্বরে আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে একটি ও শিবচর উপজেলার চারটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয়রা। জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচরের পৃথকস্থান হতে চারটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয়রা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে দত্তপাড়া ইউনিয়নের হাজী কাইমুদ্দিন শিকদারকান্দি এলাকার একটি ধান ক্ষেত থেকে একটি সাপ মারে এলাকাবাসী। পরে দুপুরে শিরুয়াইল ইউনিয়নের উৎরাইল গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মসজিদের সামনে থেকে একটি এবং সন্ধ্যার পর একই এলাকার মো. জামাল শেখের বাড়ি থেকে আরও একটি সাপ পিটিয়ে মারা হয়। রবিবার দুপুরে চরজানাজাত গ্রামের পাটের জমি থেকে একটি সাপ পিটিয়ে মারা হয়।

(প্রতিবেদনটি নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী এবং ফরিদপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য নিয়ে তৈরি)