চমেকে বিদ্যুৎ বিল বাকি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ৭ ঘণ্টা

১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে গতকাল সোমবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) দুটি অ্যাকাডেমিক ভবন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চমেকের পুরাতন ও নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে দুর্ভোগে পড়েন চমেকের ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চমেক কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বকেয়া বিল পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করে দেয় পিডিবি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেকের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে। যার কারণে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুটি অ্যাকাডেমিক ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পিডিবি। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বিল পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুনরায় লাইন চালু করে দেয় পিডিবি। তবে এর আগে ৭ ঘণ্টা অন্ধকারে ছিল চমেকের অ্যাকাডেমিক ভবন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় কিছু ক্লাস বাতিল করতে হয়েছিল।

দুটি অ্যাকাডেমিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও চমেক হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের প্রায় ২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে। বিদ্যুৎ বিল খাতে বরাদ্দ যা পাই তা বছরের অর্ধেক সময়ে শেষ হয়ে যায়। তবে আমরা বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।’

চমেকের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোরশেদ আলম জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল চমেকের দুটি অ্যাকাডেমিক ভবন। এ সময় জেনারেটর দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। জেনারেটর দিয়ে শুধু বাতি, ফ্যান ও লিফট চালু রাখা গেছে। শীতাতপ যন্ত্র চালানো যায়নি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চমেকের প্রায়ই ক্লাসরুম ফাঁকা ছিল। নিচতলায় প্যাথলজি ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকেন। শিক্ষার্থী না থাকায় অনেক শিক্ষক ক্লাসরুমে একা বসে থাকেন।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগের (দক্ষিণ) প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বারবার নোটিস দেওয়ার পরেও ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি চমেক কর্তৃপক্ষ। শুধু অ্যাকাডেমিক ভবনের বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বকেয়া বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফের সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়।’