৬ লাখ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ

গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যামূলক আগ্রাসনের কারণে ৬ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি শিশু গত আট মাস ধরে স্কুলে যেতে পারছে না। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত আট মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৮৬ হাজার ৫০০-এর মতো। হতাহতের মধ্যে ১৫ হাজারেরও বেশি শিশু।

গতকালও ইসরায়েলি হামলায় গাজার দেইর আল বালাহ শহরে তিন চিকিৎসকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শুজাইয়া শহর থেকে আরও সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরটিতে ইসরায়েলি বোমা হামলা এখনো চলছে।

এদিকে ইসরায়েলের একটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে উদ্ধৃত করে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাজায় এখনো হামাস আন্দোলনের অস্তিত্ব রয়ে গেছে। হামাসের শাসন করার সামর্থ্য ধ্বংস করতে সময় লাগবে। তবে হামাস আন্দোলন থেকে যাবে।

৬ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ কী : জাতিসংঘ জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে এ শিশুদের মধ্যে তিন লাখ ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত স্কুলগুলোতে পড়ালেখা করত। সংস্থাটি জানায়, ইউএনআরডব্লিউএ সদস্যদের পরিচালিত খেলা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম শিশুদের স্কুলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি ও তাদের শিক্ষার অধিকার ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। এতে ১ হাজার ১৭০ জন নিহত হয়। জিম্মি হয় প্রায় ২৫০ জন। এ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সেদিনই গাজার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও নির্বিচার বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। পরে স্থলবাহিনীও এতে যোগ দেয়।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেলের পর্যবেক্ষণ, ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় যে পরিমাণ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, বিশে^র আর কোনো সংঘাতে তেমনটি তারা দেখেননি। আর যারা বেঁচে আছে, তারা ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে কাতর। এ শিশুদের অনেকেরই শরীরে ‘কান্নার মতো পর্যাপ্ত শক্তি’ অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি হামলায় আহত হাজারো শিশুর খবর এখনো অজানা। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলা শুরুর পর অন্তত ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। অধিকার সংস্থাটি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি চালুর এবং নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে এই ২১ হাজার শিশু হারিয়ে গেছে, উধাও হয়েছে, আটক হয়েছে, ভাঙা পাথরের নিচে চাপা পড়েছে অথবা গণকবরে শায়িত রয়েছে।

ইসরায়েলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা : লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় তাদের চার যোদ্ধা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ‘কয়েক ডজন’ রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়েছে। উভয়পক্ষের মধ্যে হুমকি তীব্র হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার ঘটনায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি নৃশংস অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়মিত আন্তঃসীমান্ত গোলা বিনিময় চলছে।

হামাসের মিত্র হিজবুল্লাহ বলেছে, শত্রুর আক্রমণের জবাবে তার যোদ্ধারা নাবাতিয়েহ শহর এবং সোহমোর গ্রামে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল কমান্ডের প্রধান বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে কয়েক ডজন কাতিউশা রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতিতে বলেছে, আনুমানিক ৩৫টি রকেট লেবানন থেকে ইসরায়েলে এসে পড়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সফলভাবে’ বেশিরভাগ রকেট আটকে দিয়েছে। কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি। এতে বলা হয়েছে, সোহমোর এলাকায় একটি বিমান হামলায় তিনজন এবং দেশটির দক্ষিণে দুই হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।