বাফুফের পকেট ভোটার বাড়ানোর এজিএম শনিবার

আর তিন মাসের কিছু পরেই হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির চার বছরের মেয়াদ পূর্তি। নির্বাচনী কংগ্রেসের আগে অবশ্য শনিবার ২০২৩ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

যেখানে বিবিধসহ রয়েছে ১২টি এজেন্ডা। যেখানে ২০২২ ও ২০২৩ সালের অর্থ প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। তবে এই এজিএম বাফুফের কয়েকজন পদধারীর জন্য শুধুই পকেট ভোটার বাড়ানোর চক্রান্ত।

ঠিক তাই। আলোচ্যসূচির ১১ নম্বর এজেন্ডায় লেখা হয়েছে, বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির গত ৩ মে তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় অনুমোদিত মহিলা ফুটবল লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা চারটি ক্লাবকে বাফুফের এফিলিয়েটেড সদস্য পদ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ছত্রচ্ছায়ায় এই চক্রান্তের মূল হোতা নারী ফুটবল কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ; যিনি এক-দুই বছর পরপর নামধারী কিছু ক্লাবকে নিয়ে আয়োজন করে নারী ফুটবল লিগ। সর্বশেষ লিগেই স্বীকৃত কোনো ক্লাব অংশ নেয়নি। অথচ লিগ শুরুর পর তিনি বাফুফের নির্বাহী সভায় প্রভাব খাটিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা চারটি ক্লাবকে ভোটাধিকার দেওয়ার অনুমোদন নিয়েছেন সভাপতির উপস্থিতিতে।

এ নিয়ে নির্বাহী সভা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভীষণভাবে। অনেক সদস্যই এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তবে সভাপতির সামনেই ধমক দিয়ে সেই সব সদস্যকে থামিয়ে দেন কিরণ। নির্বাহী কমিটির ভোটার বাড়ানোর ক্ষমতা নেই। তাই শনিবার বার্ষিক সাধারণ সভায় তোলা হবে এ বিষয়টি। ভেতরে কথা বলে জানা গেছে, বাফুফের পছন্দসই ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে নিয়ে এসে সালাউদ্দিন-কিরণপন্থি একটি পক্ষ চাইছে হ্যাঁ ভোটে চারটি নতুন ভোটার পকেটে পুরতে।

এজিএমে চলতি ২০২৪ সালের সম্ভাব্য বাজেটও অনুমোদন করিয়ে নিতে চায় নির্বাহী কমিটি। প্রায় ২৩ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেটে রয়েছে অনেক অসংগতি। ২০২৪ সালের খসড়া বাজেটে বাফুফের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ কোটি ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩০ টাকা। বিপরীতে আয় ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঘাটতি ২২ কোটি ৮০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

বিপুল ব্যয়ের মধ্যে ঘরোয়া পর্যায়ে নানা টুর্নামেন্ট, লিগ, প্রতিযোগিতা, নারী-পুরুষ দলের প্রশিক্ষণ আয়োজনে ৩৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি খাতে সোয়া ১০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ফেডারেশনের স্টাফদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতার জন্য বার্ষিক ব্যয় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। ইউটিলিটি বিল, বিভিন্ন মেরামতের জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ধরা থাকলেও আবার আলাদা অন্যান্য খাতে বিশেষভাবে সাড়ে তিন কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।

প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে হতে যাচ্ছে আজকের এজিএম। ফুটবল অঙ্গনের অনেকে এটাকে আসছে নির্বাচনী কংগ্রেসের আগে কাউন্সিলরদের খাতির-যত্নের এজিএম হিসেবেও অভিহিত করছেন।