সিলেটে কাউন্সিলরের বাসায় ‘প্রতিমন্ত্রী অনুসারীদের’ হামলা

আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের (সিসিক) কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদের বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সিলেট নগরীর টিলাগড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাসাও ওই এলাকায়।

এদিকে হামলার ঘটনার জের ধরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে টিলাগড়ে প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছফু আহমদের বাসায় পাল্টা হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাউন্সিলর আজাদের অনুসারীরা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ছফু আহমদ। কাউন্সিলরের বাসায় হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একদল যুবক কাউন্সিলর আজাদের টিলাগড়ের ভাটপাড়ার পৈতৃক বাড়ি ও শাপলাবাগ এলাকায় অবস্থিত তার নিজের বাসায় হামলা চালায়। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাসার কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আজাদের অনুসারীরা সেখানে জড়ো হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা দ্রুত চলে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন আজাদুর রহমান আজাদের বাসায় হামলাকারীদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। হামলাকারীরা এরপর আজাদের ঘনিষ্ঠজন যুবলীগ নেতা শমসের আলীর বাসায়ও হামলা চালায়। খবর পেয়ে আজাদের অনুসারীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা। এতে তাহমিদুর রহমান, হীরক রঞ্জন দে পাপলু, ফয়ছল ও মুতাছির আহত হন।

কাউন্সিলর আজাদের অনুসারীদের অভিযোগ, শেখ নজরুল ইসলাম বিজয়, রাব্বী, রিয়াজুল, সুহেল, নাসির, সামাদসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে কাউন্সিলরের পৈতৃক ভিটায় হামলা চালিয়েছে। পরে নগরের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকায় কাউন্সিলরের নিজ বাসভবনেও হামলা চালায়।

হামলার বিষয়ে কাউন্সিলর আজাদুর রহমান বলেন, ‘এলাকায় চাঁদাবাজি-দখলবাজি চালিয়ে আসছে একটি চিহ্নিত মাদকসেবী চক্র। তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। সেসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান ছিল। ওই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার বাসায় হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করব। আমার ভাতিজাসহ কয়েকজন হামলাকারীদের আঘাতে আহত হয়েছে। আমার চারটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।’

এদিকে শুক্রবার দুপুরে কাউন্সিলর আজাদের অনুসারীরা বাসায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ছফু আহমদ বলেন, ‘জুমার নামাজের পর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাসায় হামলা করে। হামলাকারীরা ঘরের জানালার গ্লাস ও বাসার সামনে থাকা গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।’

তবে ছফুর বাসায় হামলার আগেই পুলিশ তা প্রতিহত করেছে জানিয়ে শাহপরান থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলেন, ‘কাউন্সিলরের বাসায় হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকেই টিলাগড় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশও সেখানে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। শাপলাবাগে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বাসায় কিছু লোক জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, কাউন্সিলর আজাদের বাসায় হামলার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের বাসায় হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা হামলা করেছে, তারা চোর-ডাকাত। এরা দলের কেউ নয়। এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। এ ছাড়া আজাদুর রহমান আজাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে।’