ইসলামি অর্থনীতির উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা

পরিপূর্ণ ও সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থার নাম ইসলাম। মানব জীবন যথাযথ কল্যাণময় করার জন্যই ইসলামি শরিয়ার আবিষ্কার। আরও সহজভাবে বললে ইসলামি শরিয়ার উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা এবং ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা দূর করা। আর ইসলামি শরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ইসলামি অর্থনীতি। কেননা ইসলাম আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই সম্পদ উপার্জন, রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালা দিয়ে দিয়েছে ইসলামি শরিয়া।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর যখন নামাজ আদায় শেষ হয়ে যায়। তখন তোমরা ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত ১০) হজরত রাসুল (সা.) বলেন, ‘অন্যান্য ফরজ আদায়ের পর হালাল রুজি অন্বেষণ করাও একটি ফরজ।’ (আল মুত্তাকি আল হিন্দ ৯২৩১) রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘আর এ থেকে কিছু সম্পদ নিজের জন্য রাখো। তা তোমার জন্য উত্তম।’ (সহিহ বুখারি ২৭৫৭)

ইসলামি অর্থনীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে এভাবে বলা যায় যে, তা হলো সম্পদ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক দাসত্ব রোধ করা, মানুষের অর্থনীতিক কল্যাণ সাধন ও জীবন মান উন্নয়ন করা। সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রত্যেকের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায়দের অধিকার সংরক্ষণ ইসলামি অর্থনীতির আসল উদ্দেশ্য। এ সমস্ত উদ্দেশ্যের সুষম বাস্তবায়ন ও আদর্শ অর্থব্যবস্থা প্রণয়নে প্রযোজ্য যাবতীয় নীতিমালা সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে কোরআন ও হাদিসে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘(তাদের) ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত ১৯) অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত ২৯) আরও বলা হয়েছে, ‘পরিমাপ ও ওজন পূর্ণ করো ন্যায্যভাবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত ১৫২)

সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, ‘তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণ প্রসারিত করো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৯) এ আয়াতে কৃপণতা কিংবা অপচয়ে না গিয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

আর্থিক লেনদেন ও ঋণ বিনিময়ের হিসাব সংরক্ষণ করার নির্দেশও দিয়েছে ইসলাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণ বিনিময় করো, তখন তা লিখে রেখো। তোমাদের মধ্যে কোনো লেখক যেন ন্যায্যভাবে লিখে দেয়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৮২)

প্রচলিত অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। যদিও প্রচলিত এই অর্থব্যবস্থা মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও সামগ্রিক কল্যাণ সাধনে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও সুদভিত্তিক অর্থনীতি ধনীকে বানাচ্ছে আরও ধনী আর নিঃস্ব গরিবদের করছে সর্বস্বান্ত। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দরিদ্র ও বেকারত্ব দূর করে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থা তৈরির জন্য ইসলামি শরিয়াভিত্তিক প্রণীত অর্থব্যবস্থা অতীব জরুরি।